সংবিধান ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে হবে: শেখ হাসিনা
বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে ঐক্যবদ্ধভাবে পবিত্র সংবিধান এবং দেশমাতৃকার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আভ্যন্তরীণ কিংবা বাহ্যিক হুমকি মোকাবেলায় সদা প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ (বুধবার) বিকেলে সিলেটে জালালাবাদ সেনানিবাসে ১৭ পদাতিক ডিভিশনের অধিনস্থ সদর দপ্তর, ১১ পদাতিক ব্রিগেডসহ ৯টি ইউনিটের পতাকা অনুষ্ঠানে ভাষণকালে তিনি এ নির্দেশনা দেন।
সরকারি বার্তা সংস্থা বাসস পরিবেশিত খবরে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীকে দেশের সম্পদ এবং দেশের মানুষের ভরসা ও বিশ্বাসের প্রতীক আখ্যায়িত করে তাদেরকে পেশাগতভাবে দক্ষ, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে সৎ এবং মঙ্গলময় জীবনের অধিকারী হতে পরামর্শ দেন।
প্রধানমন্ত্রী সেনা সদস্যদের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি আস্থা, পারস্পরিক বিশ্বাস, সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ, কর্তব্যপরায়ণতা, দায়িত্ববোধ এবং সর্বোপরি শৃঙ্খলা বজায় রেখে কর্তব্য সম্পাদনে একনিষ্ঠভাবে কাজ করারও পরামর্শ দেন।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, শিক্ষা মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সেনা বাহিনী প্রধান আবু বেলাল মুহাম্মদ শফিউল হক, সেনা বাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লে. জেনারেল আনোয়ার হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন, প্রেস সচিব ইহসানুল করিমসহ উচ্চ পর্যায়ের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকতাগণ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী নবগঠিত সদর দপ্তর ১১ পদাতিক বিগ্রেড এর পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছলে সেনাবাহিনী প্রধান আবু বেলাল মুহাম্মদ শফিউল হক, ১৭ ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের জিওসি এবং সিলেটের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল আনোয়ারুল মোমেন প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজের মাধ্যমে অভিবাদন জানায়। প্যারেড শেষে প্রধানমন্ত্রী সিলেট সেনানিবাসে বিভাগীয় সদর দপ্তরসহ ৮টি স্থায়ী প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৪ সালে জাতির পিতার সুদূরপ্রসারী প্রতিরক্ষা নির্দেশনার আলোকেই প্রণীত ফোর্সেস গোল-২০৩০-এর আওতায় তিন বাহিনীর পুনর্গঠন ও আধুনিকায়নের কার্যক্রমসমূহ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমান সরকার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুদৃঢ়করণ এবং সেনাবাহিনীর উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে নতুন পদাতিক ডিভিশন ও বেশ কিছু ব্রিগেড প্রতিষ্ঠা করে।
শেখ হাসিনা বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা ও পারদর্শীতা বৃদ্ধির জন্য উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আধুনিক যানবাহন, হেলিকপ্টার, সমরাস্ত্র ও সরঞ্জামাদি সংযোজন করা হয়েছে। বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলার মধ্যবর্তী পায়রা নদী সংলগ্ন এলাকায় লেবুখালী সেনানিবাসে ১টি পদাতিক ডিভিশন গঠনের নীতিগত অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত বাংলাদেশের সৈনিকদের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, জাতিসংঘ মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
আজ সকাল ১১টায় এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছলে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মাদ শফিউল হক, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ এবং দলের সিলেট জেলা ও নগর শাখার নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।
বিভাগীয় এই শহরে পৌঁছেই প্রথমে তিনি হযরত শাহজালালের (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন। তিনি সেখানে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত এবং ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত করেন।
এরপর তিনি শহরের উপকন্ঠে হযরত শাহ পরানের (রহ.) মাজারে যান এবং সেখানেও পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত, ফাতেহা পাঠ এবং মোনাজাত করেন।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৩