বিএনপি-জামাত শিবিরের নাশকতা ঠেকিয়েছে বিজিবি: প্রধানমন্ত্রী
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i28741-বিএনপি_জামাত_শিবিরের_নাশকতা_ঠেকিয়েছে_বিজিবি_প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিজিবির প্রচেষ্টায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সীমান্তে নিহতের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। তবে তিনি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নিরীহ বাংলাদেশিদের নিহত হবার ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় বলে উল্লেখ করেছেন।
(last modified 2026-06-05T12:08:31+00:00 )
ডিসেম্বর ২০, ২০১৬ ১৪:০৩ Asia/Dhaka
  • বিজিবি দিবস উপলক্ষে ঢাকার পিলখানায় এক অনুষ্ঠানে  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
    বিজিবি দিবস উপলক্ষে ঢাকার পিলখানায় এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিজিবির প্রচেষ্টায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সীমান্তে নিহতের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। তবে তিনি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নিরীহ বাংলাদেশিদের নিহত হবার ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় বলে উল্লেখ করেছেন।

আজ (মঙ্গলবার) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি দিবস উপলক্ষে ঢাকার পিলখানায় এক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, "সীমান্তে নিরীহ বাংলাদেশি নিহত হওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিজিবির প্রচেষ্টায় বিএসএফের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার করার ফলে সীমান্তে নিহতের সংখ্যা অনেক হ্রাস পেয়েছে।"

উল্লেখ্য, বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন অভিযোগ করছে, ভারতের সাথে সীমান্তে হত্যার ঘটনা এতই বেশী যে সাম্প্রতিক কয়েক বছরে গড়ে ৫০ জনের মতো বাংলাদেশি নাগরিক ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বা বিএসএফের হাতে নিহত হয়েছে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী অপরাধ দমনে বিজিবি সদস্যদের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, "বিএনপি এবং জামাত-শিবিরের জ্বালাও পোড়াও ও পেট্রল বোমা সন্ত্রাসীদের নৈরাজ্য সৃষ্টির অপতৎপরতা প্রতিহত করতে আপনারা যে দক্ষতা দেখিয়েছেন,তা সত্যি প্রশংসনীয়।"

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, "সীমান্তে আপনাদের কঠোর অবস্থানের ফলে চোরাচালান, মাদকপাচার, নারী-শিশু পাচার এবং সীমান্ত অপরাধ বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে।"

তবে ২০১০ সালে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দেয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, এক দশকে বিএসএফের গুলিতে প্রায় এক হাজার বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছে।

বহু মানবাধিকার সংগঠন এই সীমান্তকে পৃথিবীর সবচেয়ে বিপদসংকুল সীমান্ত হিসেবেও আখ্যা দিয়েছে।

আর বিএসএফ-কে ট্রিগার হ্যাপি বাহিনী হিসেবেও চিহ্নিত করেছে নিউইয়র্ক ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, যার অর্থ হলো এই বাহিনীর সদস্যরা গুলি ছুঁড়লেই আনন্দ পায়।

প্রধানমন্ত্রী  দেশপ্রেম, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে বাহিনীর সুনাম ধরে রাখতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, বিজিবির কল্যাণ ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রাখতে সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

বিজিবি দরবারে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এবং বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী বিজিবি দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে পিলখানায় সদর দপ্তরের বীর উত্তম আনোয়ার হোসেন প্যারেড গ্রাউন্ডে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন।

সেখানে প্রধানমন্ত্রী এ বছর বীরত্ব ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বিজিবি সদস্যদের মধ্য থেকে ১০ জনকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ পদক, ২০ জনকে রাষ্ট্রপতি বর্ডার গার্ড পদক, ১০ জনকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ পদক-সেবা এবং ২০ জনকে রাষ্ট্রপতি বর্ডার গার্ড পদক-সেবা  পরিয়ে দেন।#

পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/গাজী আবদুর রশীদ/২০