প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা: বিএনপির আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i30877-প্রধানমন্ত্রীর_ভাষণ_মানুষকে_বিভ্রান্ত_করার_চেষ্টা_বিএনপির_আনুষ্ঠানিক_প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের তিন বছর পূর্তিতে দেয়া ভাষণে, বিভিন্ন ভ্রান্ত তথ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন বলে দাবি করেছে বিএনপি। সেইসঙ্গে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে আগামী নির্বাচন ও রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করবেন এবং জাতিকে নতুন আশার আলো দেখাবেন বলে আশা করে দলটি।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জানুয়ারি ১৩, ২০১৭ ১৬:৫১ Asia/Dhaka
  • বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের তিন বছর পূর্তিতে দেয়া ভাষণে, বিভিন্ন ভ্রান্ত তথ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন বলে দাবি করেছে বিএনপি। সেইসঙ্গে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে আগামী নির্বাচন ও রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করবেন এবং জাতিকে নতুন আশার আলো দেখাবেন বলে আশা করে দলটি।

আজ (শুক্রবার) বিকেলে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন। জাতির উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ভাষণ নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। লিখিত বক্তব্যে দলের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে দেয়া বিভিন্ন তথ্য খণ্ডন করা হয়। যদিও ভাষণের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন বিএনপি মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠনের যে কথা বলেছেন, তা সঠিক নয়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ৫ শতাংশ ভোটও পড়েনি। আর প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে এমনভাবে চিত্রায়িত করেছেন যে সব উন্নয়ন তার দুই দফার সরকারের আট বছরেই হয়েছে, যা সঠিক নয়। অর্থনৈতিক উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া। ভিত্তি তৈরি করতে হয়, এরপর একটি একটি করে ইট লাগাতে হয়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, উন্নয়নের নামে সরকার জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। গত আট বছরে ধনী আরও ধনী, গরিব আরও গরিব হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক ভঙ্গুরতা বেড়েছে। নজিরবিহীন দলীয়করণ, প্রশাসন ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল ও ক্ষয়িষ্ণু করেছে। জবাবদিহিতার অভাব, অকার্যকর সংসদ দুর্নীতিকে লাগামহীন পর্যায়ে নিয়ে গেছে। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ধ্বংসের মুখে। শেয়ার মার্কেট লুট, ব্যাংক লুট, দলীয় ব্যক্তিদের জন্য ঋণসুবিধা ও ফেরত না দেয়ার প্রবণতা অর্থনীতিকে ভেতরে-ভেতরে অন্তঃসারশূন্য করে ফেলছে।

সব দল রাষ্ট্রপতির করা নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখবে এবং সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে, প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, আমরা তো নির্বাচনে অংশ নিতে চাই। কারণ, আমরা বিশ্বাস করি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমেই জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা হতে পারে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠায় একটি নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ, সাহসী, যোগ্য নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় সব দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচন হতে হবে। সে জন্য সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। বিরোধী দল নির্মূল করার যে প্রক্রিয়া চলছে, তা বন্ধ করতে হবে। সব রাজনৈতিক নেতাকে মুক্তি দিতে হবে। মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। সভা, মিছিল, সমাবেশ করার সমান সুযোগ দিতে হবে। গণমাধ্যমকে স্বাধীনতা দিতে হবে। একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক পরিবেশ, রাজনীতিকে তার স্বাভাবিক পথে চলতে দিতে হবে।

এ সময়, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐকমত্য তৈরির কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে বিরোধীদলকে দায়ী করে সরকার জঙ্গিবাদকে আরও প্রশ্রয় দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব।#

পার্সটুডে/শামস মন্ডল/গাজী আবদুর রশীদ/১৩