আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত লাইফ সাপোর্টে, অবস্থা সংকটাপন্ন
-
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এমপি
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। তার অবস্থা সংকটাপন্ন বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ব্যক্তিগত সহকারী কামরুল হক জানিয়েছেন, “সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বৃহস্পতিবার অসুস্থবোধ করছিলেন। শুক্রবার সকালে তাঁকে ল্যাব এইডে ভর্তি করা হয়। তাঁর ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ে। শনিবার সন্ধ্যায় তাঁর অবস্থার অবনতি হয়। রাত নয়টার দিকে তাঁকে লাইফ সাপোর্ট দেয়া হয়। চিকিৎসকেরা তাঁর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন।”
পরিবারের পক্ষ থেকে সাবেক এই মন্ত্রীকে সিঙ্গাপুর নেয়ার চাইলেও ল্যাবএইড কর্তৃপক্ষ বলছে, অবস্থার উন্নতি না হলে সেটা সম্ভব নয়।
হাসপাতালটির সহকারী ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম লেলিন শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে সাংবাদিকদের বলেন, “উন্নত চিকিৎসার জন্য পরিবারের সদস্যরা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে সিঙ্গাপুর নিতে চাইছেন। এজন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে এখন ওনার যে অবস্থা তাতে সিঙ্গাপুর নেয়ার মতো নয়। সকালে তার শারীরিক অবস্থা দেখে চিকিৎসকরা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।”
রাত পৌনে ১টার দিকে সুরঞ্জিতের ব্যক্তিগত সহকারী কামরুল হক বলেন, “স্যারের অবস্থা ভালো নয়। তবে এখনও হৃদস্পদন আছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।”
আওয়ামী লীগের এ বর্ষীয়ান নেতা দীর্ঘদিন ধরে রক্তে হিমোগ্লোবিন স্বল্পতাজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন। এ কারণে ১৫ দিন অন্তর এক ব্যাগ রক্ত দিতে হয়। তিনি গত দুই বছরে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে একাধিকবার চিকিৎসা করিয়েছেন। গত বছর মে মাসে শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। মাঝখানে আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালেও চিকিৎসা নেন সুরঞ্জিত।
১৯৩৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের আনোয়ারপুর গ্রামে জন্ম সুরঞ্জিতের। তিনি দিরাই উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং সিলেট এম সি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে সন্মান ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পরে ঢাকা সেন্ট্রাল ল কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন।
প্রথম জীবনেই বামপন্থি আন্দোলনে জড়িয়ে পড়া সুরঞ্জিত দ্বিতীয়, তৃতীয়, পঞ্চম, সপ্তম, অষ্টম, নবম ও দশম জাতীয় সংসদসহ মোট সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
তিনি ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসার পর তিনি রেলমন্ত্রী হন। তবে একান্ত সহকারী ওমর ফারুক ৭০ লাখ টাকাসহ আটক হওয়ার পর সমালোচনার মুখে তিনি পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করে সে সময় তাকে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী হিসেবে রাখেন শেখ হাসিনা। সুরঞ্জিত বর্তমানে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি।#
পার্সটুডে/এআর/৫