ইরানের ৩৮তম বিপ্লববার্ষিকী: বাংলাদেশের ৩ জেলায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
-
খুলনায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
ইরানের ইসলামি বিপ্লবের ৩৮তম বিজয় বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশের বন্দরনগরী চট্টগ্রাম, খুলনা ও বগুড়ায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বক্তারা মরহুম ইমাম খোমেনীর নেতৃত্ব এবং ইরানি জাতির আত্মত্যাগের প্রশংসা করেন। বর্তমান বিশ্বে ইরানের প্রভাব নিয়েও তারা কথা বলেন।
চট্টগ্রাম
ইরানের ইসলামি বিপ্লবের ৩৮তম বিজয় বার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার বিকেলে নগরীর হালিশহর আবাসিক এলাকার হোসাইনিয়া কমপ্লেক্সে শিয়া ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশন-চিটাগং-এর উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে হালিশহর হোসাইনিয়া ইমামবারগাহের ইমাম-এ-জুম’আ হুজ্জাতুল ইসলাম মাওলানা আমজাদ হোসাইন বলেন, ‘ইরানে ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের মধ্য দিয়ে আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন রাজতন্ত্রের কবর রচিত হয়। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও আরব রাজতান্ত্রিক দোসরেরা হাত গুটাতে বাধ্য হয়। ইসরাইলি যায়নবাদীদের বুকে কাঁপন সঞ্চারিত হয়। আন্তর্জাতিক ইসলামি সম্মেলনের মাধ্যমে শিয়া-সুন্নির ঐক্য প্রচেষ্টা, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা আন্দোলনে সার্বিক সহযোগিতা, ইসলামি দলিল গবেষণার মাধ্যমে সমাজ সংস্কার, বিভিন্ন ভাষায় আহলে বায়েতের (আ.) কিতাব প্রকাশনার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে বিপ্লবী ইরান। পার্লামেন্টে খ্রিস্টান-ইহুদি-কুর্দি ও জরোয়াস্ট্রিয়ানদের প্রতিনিধিত্ব এবং নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা, ইসলামি মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষা-শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা, জঙ্গিবাদবিরোধী সক্রিয় যুদ্ধ করার মাধ্যমে ইসলামি ইরান আজ সারা বিশ্বে আলোচিত।’
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে ইমাম আলী (আ.) পাঠাগার -হালিশহর শাখার সমন্বয়ক ডা. আমীর হোসাইন বলেন, ‘১৪০০ বছর আগে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) বিপ্লব করে ইসলামি শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছিলেন। ইমাম হোসাইন (আ.) তাকে পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন। পুঁজিবাদী সাম্রাজ্যবাদ ও সামাজিক সাম্রাজ্যবাদের অনুসারীরা মনে করেছিল, এই যুগে ইসলামি বিপ্লব অসার ধারণামাত্র। কিন্তু তাদের ধারণা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে ইমাম খোমেনীর (রহ.) নেতৃত্বে ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসলামি চিন্তাবিদ মোহাম্মদ আলী পবিত্র কুরআনের সুরা মুহাম্মাদের ৩৮ নম্বর আয়াতের তাফসির উপস্থাপন করে বলেন, ‘রাইফেলের সামনে দাঁড়িয়ে গোলাপ ছুঁড়ে শাহাদাত বরণের মাধ্যমে ইরানে ইসলামি বিপ্লব সংঘটিত হয়। অব্যাহত পশ্চিমা অর্থনৈতিক অবরোধ আর আরবদের চাপানো যুদ্ধের পরও সালমান ফার্সির জাতি মাথা নত করেনি। হুসাইনিয়াতের শিক্ষা ধারণ করতে না পারলে এমন বিপ্লব সম্ভব নয়। এ বিপ্লবের মাধ্যমে ইমাম মাহদীর (আ.) আগমন ও বিশ্ব মজলুমের মুক্তির পথ তৈরি হয়েছে।’
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আরশাদ হোসাইন মেহেদী। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সমাজসেবক সামার হাসনাইন।
খুলনা
ইরানের ইসলামি বিপ্লবের ৩৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার সন্ধ্যায় খুলনা ইসলামি শিক্ষা কেন্দ্রের আল কাউসার মিলনায়তনে আহলুল বায়েত (আ.) ফাউন্ডেশন আয়োজিত “হযরত ইমাম খোমেনী (রহ.) এর দর্শন ও মুসলিম উম্মাহর ওপর ইসলামি বিপ্লবের প্রভাব” শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আহলুল বায়েত (আ.) ফাউন্ডেশন খুলনার সভাপতি ও ইসলামি শিক্ষা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ ইব্রাহীম খলিল রাজাভীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান প্রকৌশল ও প্রযুক্তি স্কুলের সাবেক ডীন, নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনা প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি জনাব শেখ দিদারুল আলম ও খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জনাব কে এম ইকবাল হোসেন।
মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএফইউজের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি খুলনা মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি বিশিষ্ট আইনজীবী জনাব ড. মো: জাকির হোসেন। বক্তব্য রাখেন আহলুল বায়েত (আ.) ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইকবাল প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. রেজাউল করিম বলেন, ইরানের সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। ইরানের ফার্সি সাহিত্য বাংলা ভাষা ও বাংলা সাহিত্যকে পরিপুষ্টতা দান করেছে। ইরানে ইসলামি বিপ্লবের সাফল্যমণ্ডিত হবার পর থেকে বাংলাদেশের সাথে ভ্রাতৃপ্রতীম দুটি দেশের মধ্যকার চমৎকার সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবের প্রভাব বাঙালী মুসলিম সংস্কৃতিতে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে।
বিশেষ অতিথি শেখ দিদারুল আলম বলেন, ইরানের ইসলামি বিপ্লব বিশ্বের নির্যাতিত মজলুম মুসলমানদের মাঝে আশার সঞ্চার করেছে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে বাঁচার প্রেরণা যুগিয়েছে।
সভাপতির ভাষণে সৈয়দ ইব্রাহীম খলিল বলেন, ইরানের ইসলামি বিপ্লবের আলো বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়েছে। যে আলোর বিচ্ছুরণ বিশ্বময় ইসলামি নতুন জাগরণের সৃষ্টি করেছে। তিনি ইরানের ইসলামি বিপ্লবের সাফল্য কামনা করে মোনাজাতের মাধ্যমে সভার কার্য শেষ করেন।
বগুড়া
ইরানের ইসলামি বিপ্লবের ৩৮তম বিজয়ী বার্ষিকী উপলক্ষে বগুড়ায় আলোচনা সভা ও ইরানি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শেখ সা'দী কালচারাল সেন্টার আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বগুড়ার সরকারি মুস্তাফাবিয়া আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ প্রফেসর শাইখ মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী সুগার মিলস লিমিটেডের সাবেক মহা-ব্যবস্থাপক মীর সিদ্দিকুর রহমান, সরকারি আজিজুল হক কলেজের আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রধান প্রফেসর আবদুর রশিদ, একই কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ড. এইচ জেড এম হাসিবুশ শহিদ এবং পাবনা অ্যাডওয়ার্ড কলেজের সহযোগী অধ্যাপক আ. জ. ম. মনিরুল ইসলাম।
মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আবু জাফর মণ্ডলের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তৃতা করেন হুজ্জাতুল ইসলাম মীর আশরাফুল আলম, সাবেক অধ্যক্ষ আবদুল মান্নান, অধ্যাপক মুহাম্মদ আবদুর রকিব, অধ্যাপক টিপু সুলতান, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, সাংবাদিক মেহেরুল সুজন ও অধ্যাপক শাহিনুর রহমান।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১১