পদ্মা সেতু নিয়ে অপপ্রচারকারীদের জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে: আ. লীগ
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i32907-পদ্মা_সেতু_নিয়ে_অপপ্রচারকারীদের_জাতির_কাছে_ক্ষমা_চাইতে_হবে_আ._লীগ
বাংলাদেশে পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ কানাডীয় আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এ নিয়ে অপপ্রচারকারীদের এখন জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি করেছে।
(last modified 2026-06-27T09:59:16+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৭ ১৫:২০ Asia/Dhaka
  • সংবাদ সম্মেলনে হাছান মাহমুদ (ফাইল ফটো)
    সংবাদ সম্মেলনে হাছান মাহমুদ (ফাইল ফটো)

বাংলাদেশে পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ কানাডীয় আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এ নিয়ে অপপ্রচারকারীদের এখন জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি করেছে।

এ বিষয়ে আজ (সোমবার) রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রচার সম্পাদক ও অন্যতম মুখপাত্র হাছান মাহমুদ এ দাবি করেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূস পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একজন শীর্ষ ব্যক্তিকে ই-মেইল দিয়েছিলেন। টিআইবিসহ কিছু বুদ্ধিজীবী ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব দুর্নীতি প্রমাণ হওয়ার আগেই দুর্নীতি হয়েছ তা প্রমাণে ব্যস্ত ছিল। তাদের এ তৎপরতার কারণে পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন বন্ধ করেছে। এতে প্রকল্পের কাজ দুই বছর পিছিয়েছে। দেশ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহির্বিশ্বে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এর মাধ্যমে তারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছেন। তাদের বিচারের আওতায় আনা উচিত। যদিও এটা সরকারের দায়িত্ব, আমি মনে করি সরকার এটা ভেবে দেখতে পারে।’

এই রায়ের পর বিএনপির অবস্থান প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, দুদক যখন বলেছিল, এতে কোনো দুর্নীতি হয়নি, তখন তারা মানেনি। বলেছে, সরকারের প্রভাবে দুদক এ সিদ্ধান্ত দিয়েছে। কানাডার আদালতের রায়ের পরও তারা একই মনোভাব প্রকাশ করেছে। এর অর্থ তারা দেশও বিদেশের কোনো আদালতই মানে না। এরা আসলে গ্রাম্য মোড়লদের মতো। নিজেদের বিবেচনার বাইরে যেতে পারে না।

ওদিকে, পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির বিষয়টি বিশ্বব্যাংক প্রমাণ করতে না পারায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়েছে মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা বৈঠকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় অবস্থানের কারণে প্রমাণ হয়েছে, পদ্মা সেতু প্রকল্পে কোনো দুর্নীতি হয়নি।

আজ (সোমবার) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান।

মন্ত্রিপরিষদ বলেছেন, বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির অভিযোগ তোলার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারবার তা প্রমাণের চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন। তিনি বারবার বলেছেন, এই প্রকল্পে কোনো দুর্নীতি হয়নি, হয়ে থাকলে বিশ্বব্যাংককে তা প্রমাণ করতে হবে। কিন্তু বিশ্বব্যাংক সেটি প্রমাণ করতে পারেনি। কানাডার আদালতে প্রমাণ হয়েছে পদ্মা সেতুতে কোনো দুর্নীতি হয়নি।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, দুর্নীতি হয়নি এটি প্রমাণ হওয়ায় বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। তিনি বলেন, দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু থেকে সরে যাওয়ায় দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছিল। দেশের জিডিপিও কাঙ্ক্ষিতভাবে বাড়েনি। এই ঘটনা না ঘটলে জিডিপি ১ বা ২ শতাংশ বাড়ত।

এর আগে, রোববার জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে মন্ত্রী-ও সংসদ সদস্যরা পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতির মিথ্যা অভিযোগ তোলার কারণে বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা করার দাবি তুলেছেন। একই সঙ্গে তাঁরা বলেন, একটি জাতির বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনার জন্য বিশ্বব্যাংককে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৩