আ. লীগের দাম্ভিকতায় বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হতে পারে: রিজভী
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i33108-আ._লীগের_দাম্ভিকতায়_বিশ্বব্যাংকের_সঙ্গে_সম্পর্কের_অবনতি_হতে_পারে_রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, 'বিশ্বব্যাংক সম্পর্কে সরকারের মন্ত্রী ও নেতাদের বক্তব্য বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য অশনিসংকেত। এটা দেশের জন্য শুভ নয়, অশুভ লক্ষণ। এতে দেশ বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।'
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৭ ১২:২৩ Asia/Dhaka
  • সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন রুহুল কবির রিজভী (ফাইল ফটো)
    সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন রুহুল কবির রিজভী (ফাইল ফটো)

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, 'বিশ্বব্যাংক সম্পর্কে সরকারের মন্ত্রী ও নেতাদের বক্তব্য বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য অশনিসংকেত। এটা দেশের জন্য শুভ নয়, অশুভ লক্ষণ। এতে দেশ বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।'

আজ (শুক্রবার) সকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, "বিশ্বব্যাংক সর্বনিম্ন সুদে অর্থাৎ (শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ) সুদে ঋণ দেয়। অন্য কোনো জায়গা থেকে ঋণ নিতে হয় ৩ শতাংশ সুদ বা তারও ঊর্ধ্বে। সরকারের মন্ত্রী ও নেতাদের কথায় মনে হয়, তাঁরা যেন হঠাৎ করে দুধ দিয়ে গোসল করে নতুন গ্রহ থেকে আবির্ভূত হয়েছেন। এই মন্ত্রী ও নেতারা সারা দেশকে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য বানিয়েছেন। এমন কোনো খাত নেই—যেখানে দুর্নীতি নেই। লুট করে দেশের সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ফোকলা করে দেয়া হয়েছে।"

বিএনপির এই নেতা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, "পদ্মা সেতুর ঠিকাদার নিয়োগে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের মামলায় কানাডীয় আদালতের রায়ের পর আওয়ামী লীগের নেতাদের লাফালাফি ও দাম্ভিকতায় বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হতে পারে। এতে চলমান অনেক উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়নে সংকট হতে পারে। বাংলাদেশে এখনো বিশ্বব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকার কাজ চলমান। দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন থেকে শুরু করে প্রায় প্রতিটি খাতে তাদের বড় বড় প্রকল্প রয়েছে।"

'খালেদা জিয়ার জন্য সংবিধান ও নির্বাচন বসে থাকবে না' আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এ মন্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, "ওবায়দুল কাদের সাহেবের উদ্দেশ্যে বলতে চাই- নির্বাচন কী তাহলে শুধুমাত্র শেখ হাসিনার জন্যই ভোট-নির্বাচন বসে থাকবে? তাঁর মুখ চেয়েই নির্বাচন হবে কী হবে না সেটি নির্ধারিত হবে? আমরা প্রত্যয়-দৃঢ় কন্ঠে বলতে চাই-নির্বাচনে আস্থাশীল একটি দল, নির্বাচনে বিশ্বাসী একটি সংগঠন বিএনপি এবং বিএনপি’র চেয়ারপার্সন যিনি বারবার অবরুদ্ধ গণতন্ত্রকে অর্গলমুক্ত করেছেন তাঁকে ও তাঁর দলকে বাদ দিয়ে কোন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারবে না। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ ধরণের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীকে সুখের ইন্ধন দিতে পারে কিন্তু জনগণের মধ্যে তা বড় ধরণের আশঙ্কার সৃষ্টি করেছে। তার বক্তব্যে যে ষড়যন্ত্র ও অশুভ পরিকল্পনার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত আছে তা কারো হৃদয়াঙ্গম করতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। সংবিধানের দোহাই দিয়ে একতরফা ও বিতর্কিত নির্বাচন করার যেকোন অপচেষ্টা এদেশের জনগণ সর্বশক্তি দিয়ে রুখে দেবে।"

তিনি বলেন, "সংবিধান কোন ধর্মীয় গ্রন্থ নয় যে এটি সংশোধিত হতে পারবে না। যারা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে ভোটাধিকারকে কেড়ে নিয়ে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করে তারাই শুধু দেশের বড় দল ও দলের নেতাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে বাধা দেয়ার চেষ্টা করে, যাতে তারা একচেটিয়া বিনা ভোটে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে।"

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী

আ’লীগের নির্বাচনি প্রকল্প সফল হবে না: খসরু

এদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, তারা (আওয়ামী লীগ) বহুবিধ নির্বাচনি প্রকল্প নিয়ে এগুচ্ছে। এ প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখা, তারেক রহমানকে দূরে রাখা, বিএনপির সিনিয়র নেতাদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখা। এছাড়াও মাঠ পর্যায়ে বিরোধী দলের সক্রিয় নেতা-কর্মীদের মিথ্যা মামলা ও জেলহাজতে আটকিয়ে রেখে নির্বাচন কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখা। এসব ষড়যন্ত্র করে কোনো লাভ হবে না। আপনাদের এসব প্রকল্প জনগণ প্রতিহত করবে। 

আজ (শুক্রবার) জাতীয় প্রেস ক্লাবে 'নতুন নির্বাচন কমিশন এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন'- শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক কাউন্সিল এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। #

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৭