বাংলাদেশের মাটিতে কোনো বিদেশি সৈন্যকে বরদাস্ত করা হবে না: রিজভী
-
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী
বাংলাদেশের মাটিতে কোনো বিদেশি সৈন্যকে বরদাস্ত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে ইঙ্গিত করে আজ (মঙ্গলবার) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
রিজভী বলেন, "প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে এমনও কথা শোনা যাচ্ছে যে, দুই দেশ সম্মিলিতভাবে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিধ্বংসী কোন গুরুতর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে একসঙ্গে তা মোকাবেলা করবে। এর অর্থ হচ্ছে-বিভিন্ন অজুহাতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতকে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ দেয়া, এরফলে যা হবে সেটি হচ্ছে-ভারতের আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সোচ্চার জনগোষ্ঠীকে যাতে দমন করা সহজ হয়। আমরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলতে চাই-বাংলাদেশের মাটিতে কোনো বিদেশি সৈন্যকে বরদাস্ত করা হবে না।"
তিনি বলেন, "আমাদের দেশে অভ্যন্তরে যেকোনো অশুভ শক্তি সেটি উগ্রবাদী-জঙ্গিবাদী যে গোষ্ঠীই হোক সেটি দমন করতে আমাদের সামরিক বাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীই যথেষ্ট। আমাদের সামরিক বাহিনী এবং র্যাব-পুলিশ যদি জাতিসংঘ বাহিনীতে দক্ষতার সাথে কাজ করে সুনাম ও সাফল্য অর্জন করতে পারে তাহলে দেশের ভেতরের যেকোন জঙ্গিবাদী উৎপাত দমন করতে তারা নিশ্চয়ই সক্ষম। আমি প্রত্যয় দৃঢ় কণ্ঠে বলতে চাই- এদেশের জনগণ অনঢ় দৃঢ়তা, নাছোড় মনোভাব, প্রবল সাহস ও বুকের মধ্যে চলকে ওঠা দেশপ্রেমের অদ্ভুত নিবিষ্টতা নিয়ে ভারতের সাথে প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা চুক্তি বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে রণ-দুন্দুভি বাজিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।"
রিজভী অভিযোগ করেন, "একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিকে বানচাল করার জন্যই জঙ্গিবাদ তৎপরতা সৃষ্টি করা হয়েছে। দানবীয় জঙ্গিবাদ দেশ থেকে দূর হোক তা বর্তমান সরকারই চায় না।"
বর্তমান সরকারকে নতজানু বলে দাবি করে দেশে স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি না করার আহ্বান জানান রুহুল কবির রিজভী।এ প্রসঙ্গে তিনি স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মোশাররফ হোসেনের একটি বক্তব্যের উল্লেখ করে তাঁর উদ্দেশ্যে বলেন, "আপনাদের দলের নেতারা প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে নানা কথা বলছেন। অথচ সে বিষয়টি আপনার মতো মন্ত্রীরা জানেন না, নাকি বেমালুম চেপে যাচ্ছে। এখানেই তো রহস্য লুকিয়ে আছে।"’
তিনি বলেন. "আমরা সরকারের উদ্দেশ্যে পরিস্কার বলতে চাই- আজকে দেশের স্বাধীনতা-সর্বভৌমত্ব নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। এই প্রতিরক্ষা চুক্তি আমাদের স্বাধীনতা-সর্বভৌমত্ব সুরক্ষার সাথে সম্পর্কযুক্ত, যা অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। লাখ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে সেই স্বাধীনতা-সর্বভৌমত্ব নিয়ে কখনোই ছিনিমিনি খেলতে দেবে না জনগণ।"
‘জঙ্গিবাদ জাতীয় নির্বাচনের অন্তরায়’—আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন একটি বক্তব্যের উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘তাঁর বক্তব্যে এটা পরিষ্কার যে জঙ্গি হামলার সুবিধাভোগী কারা। কারা জঙ্গিবাদ জিইয়ে রেখে রাষ্ট্রক্ষমতা আঁকড়ে রেখেছে। এখন জনগণের কাছে পরিষ্কার, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি বানচাল করার জন্যই জঙ্গি তৎপরতা সৃষ্টি করা হয়েছে।’
তাঁর দাবি, জনগণ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে সরকার পরিকল্পিতভাবে জঙ্গিবাদের সামগ্রিক তৎপরতা আড়াল করছে। জনগণের কাছে আজ পরিষ্কার, জঙ্গিবাদকে ব্যবহার করে সরকার ফায়দা নিচ্ছে।
পার্সটুডে/এআর/২১