দিল্লি নিতে জানে, দিতে জানে না: রিজভী আহমেদ
-
রুহুল কবির রিজভী আহমেদ
দিল্লি নিতে জানে কিন্তু দিতে জানে না, এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি আরও বলেন, "আজকের মতোই জনমতকে তাচ্ছিল্য করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার দেশের অঙ্গচ্ছেদ করে বেরুবাড়ী দিল্লিকে উপহার হিসেবে দিয়েছিল। আবার পরীক্ষামূলকভাবে ফারাক্কা বাঁধ চালুর অনুমোদন নিয়ে ভারত স্থায়ীভাবে তা চালু রেখেছে। অতি নতজানু হওয়ার কারণেই দিল্লির মতলব টের পায়নি তৎকালীন আওয়ামী সরকার।"
আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিজভী।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে দেয়া কোনো প্রতিরক্ষা চুক্তি এদেশের মানুষ মেনে নেবে না। বাংলাদেশের জনগণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল হতে দেবে না। বাংলাদেশের দু’একজন লোক ভারতে চাকরি করতে পারে, কিন্তু জনগণ একাত্তরের মতোই তাদের বীরত্ব দিয়ে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে।
সুইডিশ রেডিওতে প্রচারিত সংবাদের জের ধরে রিজভী আহমেদ বলেন, র্যাবের গুপ্তহত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা ফাঁস হয়ে যাওয়াতে এদের কর্মকাণ্ডের বিভৎস রূপ এখন শুধু বাংলাদেশ নয়, সারাবিশ্বের মানুষের বিবেককে প্রবলভাবে নাড়া দিয়েছে।
র্যাপিড আ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, র্যাবের মতো একটি খুনি বাহিনী ব্যবহার করেই প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে দমন করান এবং জনগণকে চোখ রাঙিয়ে কথা বলেন। এইসব বাহিনী দিয়েই ক্ষমতাসীনরা সমাজ থেকে গণতন্ত্র, সহনশীলতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, ন্যায়বিচার, ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ সবকিছুকেই স্তব্ধ করে দেয়া হয়েছে। আর এ কারণেই জঙ্গিবাদ নামের একটি নতুন উপসর্গ জাতিকে উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কিত করে তুলেছে।
জঙ্গিবাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে রিজভী বলেন, জঙ্গিদের সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে শাসকদলের সংশ্লিষ্টতা জাতিকে হতবাক করেছে। ময়মনসিংহে যেসব জঙ্গিকে ধরা হয়েছে তাদের একজন ধোবাউড়া উপজেলা বাঘবেড় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আল আমিন, আরও দুজন আওয়ামী পরিবারের সদস্য। যেই ভবন থেকে তাদেরকে ধরা হয়েছে সেই ভবনটিও আওয়ামী লীগের একজন সাবেক এমপির বাড়ি।#
পার্সটুডে/শামস মণ্ডল/আশরাফুর রহমান/৬