হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ভাড়াটে সংগঠন: হাছান মাহমুদ
-
আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ
আমেরিকাভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে একটি ভাড়াটে সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সরকারের কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বেকায়দায় ফেলার জন্য একটি দল ও গোষ্ঠীর হয়ে কাজ করছে। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার বিবৃতি আর হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বিবৃতি এক ও অভিন্ন।
আজ (শুক্রবার) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে হাছান মাহমুদ এসব কথা বলেন। বাংলাদেশে গুম, খুন নিয়ে সম্প্রতি এইচআরডব্লিউ প্রকাশিত প্রতিবেদন ও রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ইউনেস্কোর আপত্তি প্রত্যাহারের বিষয়ে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়।
আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক বলেন, নির্দিষ্ট দল ও গোষ্ঠীর পক্ষ হয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য তারা বিবৃতি প্রদান করে থাকে। ভাড়াটে হিসেবে কাজ করে থাকে সংগঠনটি। আমরা তাদের বিবৃতি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করছি। এ বিবৃতি একপেশে ও ভিত্তিহীন।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বিতর্কিত ভূমিকা রাখছে। কোনো দেশের সঙ্গে সম্পৃক্ততাবিহীনভাবে কাজ করার নীতি নিয়ে যাত্রা করলেও সৌদি সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্তদের কাছ থেকে অনুদান নেয়ার অভিযোগে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা, প্রেসিডেন্ট বারনেইস্টাইন।
হাছান মাহমুদ বলেন, ইদানিং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ যে বিতর্কিত সাংবাদিকের তথ্যসূত্র দিয়ে বাংলাদেশের মানবাধিকার লঙ্ঘনের রিপোর্ট প্রকাশ করেছে তিনি হলেন ড. কামাল হোসেনের মেয়ে ব্যারিস্টার সারাহ হোসেনের স্বামী ডেভিড বার্গম্যান। তিনি যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে ভুল মন্তব্য করে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছিলেন। ২০০১ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে যখন অতিমাত্রায় খুন আর সংখ্যালঘু নির্যাতন হয়েছিল, আওয়ামী লীগের ২১ হাজার নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল তখন তারা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেনি। অথচ তারা যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির বিরুদ্ধে বিবৃতি দেয়।
সংগঠনটির নিরপেক্ষতা হারানো প্রসঙ্গে হাছান মাহমুদ বলেন, যখন পেট্রল বোমা মেরে শত শত মানুষ পুড়িয়ে মারা হয়েছিল, দেশের সম্পদ বিনষ্ট করা হয়েছিল, দেশজুড়ে নৈরাজ্য তৈরী করা হয়েছিল তখন তারা কোনো বিবৃতি দেয়নি। শুধু তাই নয়, আমেরিকায় যে প্রতিবছর নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে সহস্রাধিক মানুষ মারা যায়, সে ব্যাপারে কোনো বক্তব্য দেয় না। যুক্তরাষ্ট্রে এ বছরে প্রথম ছয় মাসে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ৭০০ মানুষ নিহত হয়েছে।
বাংলাদেশ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ২০১৩ সাল থেকে শত শত মানুষকে বেআইনিভাবে গোপন স্থানে আটক রেখেছে বলে সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে অভিযোগ করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। বৃহস্পতিবার ৮২ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে তারা বলেছে, কেবল ২০১৬ সালেই অন্তত ৯০ জনকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আর ২০১৭ সালে পাঁচ মাসে একইভাবে ৪৮ জনের নিখোঁজ হওয়ার খবর এসেছে।#
পার্সটুডে/শামস মন্ডল/গাজী আবদুর রশীদ/৭