মিয়ানমারের উসকানির যথাযোগ্য জবাব দিতে বাংলাদেশ ব্যর্থ: রিজভী
চলমান রোহিঙ্গা সঙ্কটের মাঝে আকাশ সীমালঙ্ঘন করে কয়েক দিন পরপরই বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ছে মিয়ানমারের হেলিকপ্টার ও ড্রোন। এ নিয়ে গতকাল আরও এক দফা কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকায় মিয়ানমারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত অং মিন্টকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিভাগের মহা পরিচালকের দপ্তরে ডেকে একটি প্রতিবাদলিপি দেওয়া হয়। গত ১০, ১২ ও ১৪ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের ড্রোন ও হেলিকপ্টার আকাশসীমা লঙ্ঘন করে বাংলাদেশে প্রবেশ করার ঘটনায় কড়া প্রতিবাদ জানানো হয় প্রতিবাদ লিপিতে।
২৫ আগস্টের পর থেকে দফায় দফায় আকাশসীমা লঙ্ঘনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে এ ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে এ ধরনের আচরণ বন্ধের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে মিয়ানমারের প্রতি জোরালো দাবি জানানো হয় বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
মিয়ানমারকে সতর্ক করে বাংলাদেশ বলেছে, তাদের এ ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড ‘অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি’ ডেকে আনতে পারে।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী রেডিও তেহরানকে বলেন, মিয়ানমারের এ ধরনের উসকানিমূলক তৎপরতার যথাযোগ্য জবাব দিতে ব্যর্থ হচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। এখনো সময় আছে, বিশ্ব জনমতকে সাথে নিয়ে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করলে শান্তিপূর্ণ উপায়ে এ সংকটের সমাধান করা সম্ভব।
গত ২৪ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে পুলিশ পোস্ট ও সেনা ক্যাম্পে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার পর বাংলাদেশ সীমান্তে নতুন করে রোহিঙ্গা শরণার্থীর ঢল শুরু হয়।
জাতিসংঘের হিসাবে এ পর্যন্ত চার লাখের মত রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে এবং পরিস্থিতির উন্নতি না হলে তা ১০ লাখে পৌঁছাতে পারে। এ অবস্থায় বিশ্বসম্প্রদায়ের নিন্দার মুখে পড়েছে মিয়ানমারবা।
বাংলাদেশ সীমান্তের নো ম্যানস ল্যান্ডে জড়ো হওয়া রোহিঙ্গাদের দিকে গুলি ছোড়ার পাশাপাশি সীমান্তের নিজেদের অংশে ভূমি মাইনও পুঁতেছে মিয়ানমার।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ওপারে স্থলমাইন বিস্ফোরণে এক বাংলাদেশিও নিহত হয়েছেন।
এ রকম পরিস্থিতিতে মিয়ানমারের হেলিকপ্টার গত ১ সেপ্টেম্বর তিন দফা বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করলে ঢাকাস্থ মিয়ানমারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত অং মিন্টকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে প্রথমবারের মত কড়া প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ। এ অবস্থায় রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে নাগরিকত্ব দিয়ে নিরাপদে বসবাস করার সুযোগ করে দিতে মিয়ানমারের ওপর কূটনৈতিক চাপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। #
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৬