বাংলাদেশ বিজয়ী জাতি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে: শেখ হাসিনা
-
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, "জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর দেশে প্রজন্মের পর প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পারেনি। একটি জাতির জন্য এর চেয়ে দুর্ভাগ্যের আর কিছু হতে পারে না।"
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি উদযাপনের অংশ হিসেবে আজ (শনিবার) বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারের হত্যার পর থেকে তার ৭ মার্চের ঐতিহাসিক সেই ভাষণ এদেশে প্রচার নিষিদ্ধ ছিল। দুর্ভাগ্য, প্রজন্মের পর প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস জানতে পারে নাই। তারা ইতিহাস মুছে ফেলতে চেয়েছিল। কিন্তু তার জানে না— ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না।'
বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এছাড়া পঁচাত্তরে নিহত জাতীয় চার নেতা, মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ, সম্ভ্রম হারানো দুই লাখ নারীর প্রতিও শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী।
এছাড়া, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে 'বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য' হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় ইউনেস্কো এবং এর সাবেক মহাসচিবসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ বিজয়ী জাতি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। যে ভাষণ জাতির পিতা দিয়েছিলেন, সেই ভাষণ আন্তর্জাতিক স্থান করে নিয়েছে। যারা এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়েছিলেন তাদের ধন্যবাদ জানান।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে জাতিসংঘের শিক্ষা বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ায় আজ জেলা, উপজেলা পর্যায়ে, বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলো আনন্দ শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।

বেলা ১২টায় রাজধানীর ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে ৭ মার্চের ভাষণের স্বীকৃতির উদযাপন শুরু হয়। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পর শুরু হয সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সন্ধ্যায় লেজার শো'র মাধ্যমে শেষ হয় আনন্দ শোভাযাত্রার এই সমাবেশ।
এ উপলক্ষে গতরাতে রাজধানীর সড়কে বর্ণাঢ্য পতাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরের ভবনগুলোকে আলোয় সজ্জিত করা হয়। #
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৫