স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের জনগণ অঙ্গীকারাবদ্ধ: শেখ হাসিনা
-
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
ফিলিস্তিনি জনগণের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও ন্যায়বিচারের জন্য অবিচ্ছেদ্য আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আন্তর্জাতিক ফিলিস্তিন সংহতি দিবস উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে তিনি এ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে যোগ দিয়ে ফিলিস্তিনি জনগণের অবিচ্ছেদ্য আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার, জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব এবং গত পাঁচ দশকে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের দেশে ফিরে আসা এবং তাদের সম্পদ ফিরিয়ে আনার অধিকারের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ সর্বদাই ফিলিস্তিনি ভাইদের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের প্রতি তাদের অবিচল দৃঢ় সংহতি প্রকাশ করে আসছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কয়েক দশক ধরে উপনিবেশিক নির্যাতন এবং ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধকালে বিপুল সংখ্যক মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়া, গণহত্যা ও মানবতা বিরোধী অপরাধের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা আমাদের রয়েছে। নীতিগতভাবে আমাদের সংবিধানে সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশিকতা ও জাতিগত নিপীড়নের শিকার হওয়া লোকদের প্রতি সমর্থন সন্নিবেশিত রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে সহিংস আক্রমণ ও মানবাধিকার লংঘন এবং অবৈধ বসতি স্থাপন, বসতি সম্প্রসারণ পরিকল্পনা এবং দখলদার বাহিনীর অন্য যেকোনো কার্যক্রমের নিন্দা জানায়।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ২০১৬ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায় এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আহ্বান জানায়। নিরাপত্তা পরিষদে সিদ্ধান্তে বলা হয়, পূর্ব জেরুজালেমসহ ১৯৬৭ সালে দখল করা ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে বসতি স্থাপন অবৈধ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ১৯৬৭ সালের সীমান্তের ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে। ফিলিস্তিন ইস্যুতে স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে এবং মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়া চালু রেখে নিরাপত্তা পরিষদের প্রচেষ্টা এবং আরব শান্তি পরিকল্পনা, দ্য কোয়ার্টেট রোড ম্যাপ, মাদ্রিদ সম্মেলনের আলোকে জাতিসংঘ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিশ্বাস করি। আমরা ফিলিস্তিন প্রশ্নে শান্তিপূর্ণ ও স্থায়ী সমাধানের উপায় খুঁজতে একতাবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’
এদিকে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলাদা এক বিবৃতিতে মানবাধিকার লংঘন এবং ইসরাইলি আগ্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়েছে।
১৯৭৭ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২৯ নভেম্বরকে ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে সংহতি প্রদর্শনস্বরূপ “আন্তর্জাতিক ফিলিস্তিন সংহতি দিবস” হিসেবে গ্রহণ করে। এর দশ বছর পরে ১৯৮৭ সালের ২৯ নভেম্বর ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে 'ইউনাইটেড নেশনস পার্টিশন প্ল্যান ফর প্যালেস্টাইন' প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। এরপর থেকে এ দিনটি “আন্তর্জাতিক ফিলিস্তিনি সংহতি দিবস” হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৯