খালেদা জিয়ার জ্ঞান-বুদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন শেখ হাসিনা
-
ছাত্রলীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন শেখ হাসিনা
পদ্মা সেতু নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাম্প্রতিক মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, “এই ধরনের কাণ্ডজ্ঞানহীন মন্তব্য করে খালেদা জিয়া প্রমাণ করেছেন একটি সেতু বানাবার ওই ক্ষমতা তার নেই। এটা ওনার কথার মধ্য দিয়েই উনি বুঝিয়ে দিয়েছেন। যার মাথায় এতটুকু বুদ্ধি আছে, সেন্স আছে, সে যদি সজ্ঞানে বলে থাকে তাহলে একথা বলত না, ঠিকই বলত না।”
বৃহস্পতিবার বিকেলে গণভবনে ছাত্রলীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গত মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া বলেন, ‘পদ্মা সেতু আওয়ামী লীগের আমলে হবে না। জোড়াতালি দিয়ে তাড়াহুড়ো করে এই সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। কেউ এই সেতুতে উঠতে যাবে না। কারণ, অনেক ঝুঁকি আছে।’
বিএনপি চেয়ারপারসনের এই কথার প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “আজকে পদ্ম সেতু তৈরি হচ্ছে, সেটা নাকি জোড়াতালি দিয়ে! হ্যাঁ, একদিক দিয়ে ঠিক। যেহেতু এক একটা পার্ট তৈরি করে একেকটা বসায়। যার এইটুকু জ্ঞান নেই, একটা জিনিস নির্মাণ করতে হলে কীভাবে কী পদ্ধতিতে করতে হয়, যার মাথায় ওই টুকু ঘিলু নাই। উনার মাথায় যে ঘিলু আছে সেটা কিসের? চুরি করা, টাকা বানানো, এতিমের টাকা খাওয়া, মানুষ পোড়ানো, মানুষ মারা…।”
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এই অবকাঠামো নির্মাণ করতে গিয়ে অনেক চড়াই-উৎরাই পেরোনোর কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির দোষারোপ করার পর আমি চ্যালেঞ্জ দিলাম। সৎ সাহস ছিল বলেই চ্যালেঞ্জ দিতে পেরেছি। চ্যালেঞ্জ দিয়ে আমরা যখন নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করি তখন আপনারা শুনেছেন খালেদা জিয়া বক্তৃতা দেয়, ওই পদ্মা সেতু জোড়াতালি দিয়ে করা হচ্ছে। কেউ পদ্মা সেতুতে উঠবেন না।”
বিএনপির সমালোচনা করে শেখ হাসিনা আরও বলেন, “একটা ব্যাপারে তারা পারদর্শী- অর্থপাচার করা। ইতোমধ্যে খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক ঘুষ খেয়েছে ও অর্থপাচার করেছে-এটা আমেরিকার ফেডারেল কোর্টে প্রমাণিত হয়েছে। যার জন্য বিচারে সাজা হয়েছে। আরেক ছেলে (অর্থপাচার) ধরা পড়েছে সিঙ্গাপুরে। দুই ছেলে দুই রত্ন।”
খালেদা জিয়াকে ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, “উনিও কম যান না, এতিমের টাকা মেরে দিয়ে বেশ দিব্যি… এই যখন মানসিকতা তারা দেশের মানুষকে কী দেবে? তারা মানুষের ক্ষতি করতে পারে, উপকার করতে পারে না।”
অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের সংগ্রাম-গৌরবের ইতিহাস তুলে ধরে সে অনুযায়ী নিজেদের গড়তে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।
গণভবনের মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন। অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের বিভিন্ন কমিটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের পথচলা শুরু। এ বছর সংগঠনটি ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে কেক কাটেন ছাত্রলীগের নেতারা। তার আগে ভোরে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তারা।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৫