আওয়ামী লীগের আগাম নির্বাচনী প্রচারণা, আচরণবিধি লংঘনের অভিযোগ
বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা আগামী ৩০ জানুয়ারি সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত এবং জনসমাবেশের মাধ্যমে তার প্রাক- নির্বাচনী সফর শুরু করবেন।
এর পর আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি যাবেন বরিশালে। এভাবে প্রতিটি বিভাগীয় শহরে নির্বাচনী সফর করবেন। এই ধারাবাহিকতায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিভিন্ন জেলা সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী।
আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের সূত্র উদ্ধৃত করে ঢাকার এটি দৈনিক পত্রিকা আজ জানিয়েছে, জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি আগামী মার্চ-এপ্রিলে অনুষ্ঠেয় সিটি করপোরেশন নির্বাচন বিষয়টিও মাথায় রেখে শেখ হাসিনার বিভাগীয় সফর শুরু হচ্ছে।
সরকারের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে ১২ জানুয়ারি জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণেও প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, এ বছরের শেষ নাগাদ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সব দলের অংশগ্রহণ আশা করলেও সংবিধান মেনে তাঁর নেতৃত্বাধীন নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে-এটাও তার ভাষণে স্পষ্ট করে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিকে কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচনের কৌশল ঠিক করা, প্রচারকাজ জোরদার করা ও সাংগঠনিক তৎপরতা চালানোর জন্য ধানমন্ডিতে নতুন একটি কার্যালয় খোলা হয়েছে। প্রাক-নির্বাচনী তৎপরতার অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা ২৬ জানুয়ারি থেকে সারা দেশে সফর শুরু করবেন। এজন্য জ্যেষ্ঠ কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে ১৫টি টিমও গঠন করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে যে শক্ত মনোভাব দেখাচ্ছেন, তাতে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন করার সুযোগ নেই। এবার আওয়ামী লীগকে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। এছাড়া, টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার কারণে অনেক মানুষের মধ্যে নানা কারণে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে আছে সরকারি দলে অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং বেশির ভাগ আসনে দলের একাধিক প্রার্থী। সবকিছু সামাল দেয়ার জন্য এবার একটু আগে মাঠে নামছে ক্ষমতাসীন দল।
ইতোমধ্যেই দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা দুটি বিষয় গুরুত্ব দিয়ে প্রচারণা শুরু করেছেন। একটি হচ্ছে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরা (আগে কী ছিল আর এখন কী হয়েছে তা তুলে ধরা)। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে, বিএনপি-জামায়াতের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড তুলে ধরা। এর মধ্যে হরতাল-অবরোধে জ্বালাও-পোড়াও এবং বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পরিবারের দুর্নীতির প্রচারে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। দলের প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগকে সরকারের উন্নয়ন ও বিএনপির নেতিবাচক দিক তুলে ধরে প্রচুর পরিমাণে পুস্তিকা তৈরির নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এ মাস সরকারী প্রশাসনের উদ্যোগে এক দফা উন্নয়ন মেলারও আয়োজন করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে সিপিবি’র কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স রেডিও তেহরানকে বলেন, ক্ষমতাসীন দল হিসেবে তাদের সরকারের সাফল্য তারা প্রচার করতেই পারে। কিন্তু সরকারি পদ ব্যবহার করে সরকারি অর্থ ব্যবহার করে আগাম নির্বাচনী প্রচারণা আচরণবিধির লংঘন। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের উচিত সরকারি দলকে আগাম সতর্ক করে দেয়া। তা না হলে নির্বাচনে সকলের জন্য সমান সুযোগ নীতির বরখেলাপ হবে।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার এ প্রসঙ্গে বলেছেন, সরকারের সাফল্য আর বিরোধীদের অপকর্ম প্রচার করা এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকার। কিন্তু এই অধিকার অন্য দলগুলো পাচ্ছে কি না, সেটাও একটা বড় প্রশ্ন। কারণ, বিরোধীরা কর্মসূচি দিলে অনুমতি পায় না, মাঠে নামলে হামলার শিকার হয়।
তিনি মনে করেন, গণতান্ত্রিক নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা উচিত।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২১