সারা দেশের মানুষ স্বাধীনতার সুফল ভোগ করছে: শেখ হাসিনা
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, "আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন হয়। অন্যরা স্বাধীনতায় বিশ্বাসই করত না, তাই দেশের উন্নতি হয়নি, নিজেদের উন্নতি করেছে। দেশের মানুষের উন্নতি হয়নি। আজকে সারা দেশের মানুষ স্বাধীনতার সুফল ভোগ করছে।"
আজ (বুধবার) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের বিশ্ব স্বীকৃতি উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত আওয়ামী লীগের জনসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, "আওয়ামী লীগ দেশের, দেশের মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করে থাকে। আমাদের লক্ষ্য জনগণের উন্নয়ন। আজ বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছে। কিন্তু এর আগে যারা সরকারে ছিল, সেই জিয়া সরকার, এরশাদ সরকার বা খালেদা জিয়ার সরকারের সময় দেশ তো এত উন্নত হয়নি। তাই আপনাদের কাছে আমার আহ্বান, যুদ্ধাপরাধী-খুনিরা যেন ক্ষমতায় আসতে না পারে, সেজন্য সবাই সতর্ক থাকবেন।"
আওয়ামী লীগ সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন, "১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর সময় নাকি তিনি পরিবারের জন্য কিছুই রেখে যেতে পারেননি। কিন্তু খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পর লুটপাট-দুর্নীতির মাধ্যমে তারা রাতারাতি সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলল, দেশের টাকা বিদেশে পাচার করল। আমেরিকার ফেডারেল কোর্ট, সিঙ্গাপুরের কোর্টে সেই অর্থ পাচারের ঘটনা ধরা পড়ল। সেই টাকা বাজেয়াপ্ত করা হলো, আমরা দেশে ফেরত আনলাম।"
দেশের উন্নয়নের গতিকে অব্যাহত রাখতে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে জয়ী করার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা এতিমদের টাকা চুরি করেছে তারা যেন আর ক্ষমতায় আসতে না পারে, সেজন্য সবার কাছে আহ্বান জানাই।’ একইসঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকার যে উন্নয়ন করছে, তার তথ্য সারাদেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বলেন, "আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আগামী মাসেই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হবে। বাংলাদেশ যেন কারও কাছে ভিক্ষা করে না চলে, তার ব্যবস্থা করছি। বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে।"
'প্রধানমন্ত্রী আগামী নির্বাচন নিয়ে কিছুই বলেন নি'
প্রধানমন্ত্রীর আজকের ভাষণের প্রক্রিয়ায় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক রেডিও তেহরানকে বলেন, এ রকম একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষে তিনি দেশের মূল রাজনৈতিক সংকট –আগামী নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট রাজনৈতিক বিভাজন প্রসঙ্গে কিছুই বলেন নি। ফলে জনমনে আনাস্থা এবং আশংকার দিকটি থেকেই গেল।
যানজটে নাকাল রাজধানীবাসী
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই জনসভাকে কেন্দ্র করে নগরবাসী অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়েন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের চারদিকের রাস্তা অর্থাৎ শাহবাগ থেকে মৎস্যভবন, শাহবাগ-দেয়েল চত্বর, বাংলামোটর মোড় থেকে কাকরাইল মসজিদ হয়ে মৎস্যভবন মোড় পর্যন্ত রাস্তা সাধারণ যান চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়। এতে সায়েন্স ল্যাবরেটরি থেকে মতিঝিলগামী যানবাহনগুলোকে অন্য পথে যেতে হয়। এছাড়া কাওরান বাজার মোড়, বাংলামোটর মোড় মতিঝিল ও সচিবালয়গামী গাড়িগুলোকে ঘুরিয়ে দিয়ে মগবাজার সড়ক দিকে ঘুরিয়ে দেয়া হয়। অন্যদিকে মতিঝিল ও কাকরাইল থেকে যে গাড়িগুলো ধানমণ্ডি, মোহাম্মদপুর, বনানী এবং মিরপুরগামী গাড়িগুলোকেও বিকল্প সড়কের দিকে ঘুরিয়ে দেয়া হয়। এতে করেও ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। সমস্যার জন্য নগরবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
জনসভায় সূচনা বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মতিয়া চৌধুরী, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু প্রমুখ।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৭