সিএমএইচকেও প্রত্যাখ্যান করা খালেদা জিয়ার উচিত হবে না: কাদের
-
ওবায়দুল কাদের
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসা সেবা দেয়ার যে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে তা প্রত্যাখ্যান করা উচিত হবে না বলে মনে করেন বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
আজ (বুধবার) বেলা ১১টার দিকে গাবতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে গ্রামমুখো মানুষের ঈদ-যাত্রা পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, “সিএমএইচ হচ্ছে দেশের সবচেয়ে ভালো হাসপাতাল, এর চেয়ে ভালো চিকিৎসা আর কোথায় আছে। তিনি (খালেদা জিয়া) বিএসএমএমইউতে চিকিৎসা নেবেন না, তাই আমরা সিএমএইচের কথা বলেছি। তিনি একটা বড় দলের চেয়ারপারসন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী, তাই আমরা তাকে দেশের সবচেয়ে ভালো যেখানে চিকিৎসা ব্যবস্থা, সেখানে নিয়ে যাওয়ার কথা বলছি। যদি তিনি চিকিৎসা চান, তবে এটা প্রত্যাখ্যান করা উচিত হবে না। আর যদি রাজনীতি করেন তাহলে ভিন্ন কথা।”

কারাবন্দি খালেদা জিয়া সম্প্রতি কারাগারে ‘মাইল্ড স্ট্রোক’ করেন বলে অভিযোগ তোলেন তার চার ব্যক্তিগত চিকিৎসক। এরপর থেকে বিএনপি দাবি করে আসছিল, খালেদাকে বিশেষায়িত ‘ইউনাইটেড হাসপাতালে’ চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু সরকার বলে আসছে, কারাবন্দি বিধায় খালেদাকে সরকারি হাসপাতালেই চিকিৎসা নিতে হবে। সেজন্য সরকার বিএসএমএমইউর কথা বললেও খালেদা এখানে আসতে ‘অনীহা’ দেখান। গতকাল দুপুরে খালেদা জিয়ার ভাই শামীম ইস্কান্দার রাজধানীর বেসরকারি ইউনাইটেড হাসপাতালে পারিবারিক খরচে তার চিকিৎসা করানোর জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন। এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, “কারাবিধি অনুযায়ী খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য সরকারিভাবে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা নিয়েছি। 'সর্বোচ্চ সেবা’ দেয়ার লক্ষ্যে তারা এখন সিএমএইচের প্রস্তাবটি দেবেন। তিনি যদি সিএমএইচ-এ যেতে চান, আমরা সেখান থেকেও তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে দিতে পারি।”
এরই ধারাবাহিকতায় আজ ওবায়দুল কাদেরও সিএমএইচ-এ খালেদা জিয়ার চিকিৎসার কথা বললেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “আমরা ভারত গিয়েছিলাম তিস্তা ও রোহিঙ্গা সংকটসহ জাতীয় সমস্যা নিয়ে কথা বলার জন্য। কিন্তু বিএনপি ভারত গিয়েছে নালিশ করতে। নির্বাচন ও রাজনীতি নিয়ে নালিশ ছাড়া জাতীয় স্বার্থ নিয়ে তারা কথা বলেছে, পত্রিকায় এমন খবর আমরা দেখিনি।
কাদের বলেন, “নালিশ করতে করতে দূতাবাসগুলোকে তটস্থ করে ফেলেছে তারা। এটা কোনো রাজনৈতিক দলের পরিচয় হতে পারে না। তাছাড়া, আমাদের দেশের রাজনীতিতে কোনো বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ করার সুযোগও নেই। আর ভারত যদি কেবল আমাদেরই বন্ধু হয়ে থাকে, তাহলে কেন আমরা ২০০১ সালের নির্বাচনে হেরেছি। কেন ২১ বছর ক্ষমতায় আসতে পারিনি আমরা।”
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৩