জিসিসি নির্বাচন: কেন্দ্র দখলের অভিযোগ বিএনপির, আ. লীগের অস্বীকার
-
ভোটারদের সারি
বাংলাদেশের গাজীপুর সিটি করপোরেশন (জিসিসি) নির্বাচনে কেন্দ্র দখল, জাল ভোট ও এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ করেছে বিএনপি। তবে আওয়ামী লীগ বলেছে, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হচ্ছে।
আজ (মঙ্গলবার) সকাল ৮টা থেকে ৫৭টি ওয়ার্ডের ৪২৫ কেন্দ্রে দুই হাজার ৭৬১টি কক্ষে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিরতিহীনভাবে চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। প্রার্থী ও ভোটারদের নিরাপত্তায় মাঠে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ১২ হাজার সদস্য। ভোটকেন্দ্রে কেউ কারচুপির চেষ্টা করলে প্রয়োজনে পুলিশকে গুলি করার নির্দেশ দিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
শেষ পর্যন্ত লড়ে যাব: হাসান
সকাল সোয়া ৮টার দিকে নিজ বাসভবনসংলগ্ন ৫৪নং ওয়ার্ডের আউচপাড়ায় বছিরউদ্দিন উদয়ন একাডেমি স্কুল ভোটকেন্দ্রে ভোট দেন বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী মো. হাসান উদ্দিন সরকার (ধানের শীষ)।
ভোটকেন্দ্র থেকে বের হয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। শেষ পর্যন্ত লড়ে যাব।
এ সময় অভিযোগ করে তিনি বলেন, ভোট শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ১০টি কেন্দ্র থেকে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। বেশ কয়েকজন এজেন্টকে আটক করে সাদা মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তাদের কোথায় নেয়া হয়েছে সেটি তিনি জানেন না। এসব অভিযোগের ব্যাপারে রিটার্নিং অফিসারকে ফোন দেয়া হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী: জাহাঙ্গীর
সকাল সোয়া ৯টার দিকে নিজ এলাকার মহানগরীর ৩০নং ওয়ার্ডের কানাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্রে ভোট দেন আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলম (নৌকা)।
ভোটকেন্দ্র থেকে বের হয়ে তিনি বলেন, গাজীপুরবাসী তাদের সন্তান ও সেবক হিসেবে আমাকেই ভোট দিয়ে নির্বাচন করবেন। সব কেন্দ্রেই সুষ্ঠু নির্বাচন হচ্ছে। আমি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
এ সময় নির্বাচন শুরুর পর থেকেই বিএনপি প্রার্থী ভিত্তিহীন কথা বলছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘মানুষ নিজ দায়িত্বে ভোট কেন্দ্রে আসছেন। সবাই সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে ভোট দিচ্ছেন। গাজীপুরের মানুষ যাতে স্বতঃস্ফূর্ত ও সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারেন, এ জন্য সবার সহযোগিতা চাই। আমরা সব দলের মানুষ, ভোটারকে স্বাগত জানাচ্ছি। সবার অধিকার বাস্তবায়ন করা হবে।’
শতাধিক কেন্দ্র দখল: রিজভী
এদিকে, সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “গাজীপুরে যে খবর পাচ্ছি তা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার। আমরা চমৎকার নির্বাচন চাইনি। সুষ্ঠু নির্বাচন চেয়েছি। কিন্তু নির্বাচন কমিশন বারবার সরকারের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে নির্বাচন আয়োজন করছে। যা সম্পূর্ণ জালিয়াতি ও ভোট ডাকাতির। এখন পর্যন্ত প্রায় শতাধিক কেন্দ্রে দখল, জাল ভোট, এজেন্ট গ্রেপ্তার ও বের করে দেয়া হচ্ছে।”
রুহুল কবির রিজভী বলেন, “গাজীপুরের নির্বাচন নিয়ে আমরা বার বার যে আশঙ্কা করছিলাম তারই প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি। আমাদের কাছে খবর এসেছে বিভিন্ন কেন্দ্রে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেয়া হচ্ছে, ভোটারদের ভোট দিতে দেয়া হচ্ছে না। বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের নৌকায় ভোট দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। অনেক কেন্দ্রে এজেন্টদের বের করে দিয়ে পুলিশের সহযোগিতায় ছাত্রলীগ, যুবলীগ কর্মীরা নৌকায় সীল মারছে।”
বিএনপির এ নেতা আরো বলেন, “পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা যা করে সে ভূমিকা পালন করছে। সকাল ৬টা থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের গণগ্রেপ্তার শুরু করে পুলিশ। এভাবে চলছে গাজীপুর সিটি নির্বাচন। মূলত তাদের কাছে সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করা যায় না। নির্বাচন কমিশন ভাঙা হাঁড়ির মতো কাজ করছে।”
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম ও বিএনপি মনোনীত মো. হাসান উদ্দিন সরকারের বাইরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইসলামী ঐক্যজোটের ফজলুর রহমান (মিনার), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. নাসির উদ্দিন (হাতপাখা), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. জালাল উদ্দিন (মোমবাতি), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কাজী মো. রুহুল আমিন (কাঁস্তে) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরিদ আহমদ (টেবিল ঘড়ি)।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৬