জিয়া অরফানেজ মামলা: খালেদার আপিল শুনানি ৮ আগস্ট পর্যন্ত মুলতবি
-
বেগম খালেদা জিয়া
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া একটি দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের দণ্ডের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে যে আপিল আবেদন করেছেন তার শুনানি আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত মুলতবি করেছে হাইকোর্ট।
জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট বষিয়ক দুর্নীতির এই মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছে বিচারিক আদালত। এরপর থেকে তিনি ঢাকার পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী আছেন।
আজ (বুধবার) হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এই নিয়ে খালেদা জিয়ার আপিল আবেদনের ওপর ১১তম দিনের মতো শুনানি অনুষ্ঠিত হলো। শুনানি শেষে মামলার কার্যক্রম আগামী ৮ আগস্ট শুনানির জন্য পরর্বতী দিন ঠিক করেন।
আদালতে আজ খালেদার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আব্দুর রেজাক খান ও এজে মোহাম্মদ আলী এবং দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম।
শুনানিতে খালেদা জিয়ার পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, জয়নুল আবেদীনসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী।
মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের পাঁচ মাসের মাথায় গত ১২ জুলাই হাইকোর্টে করা এ আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়।
ওই সাজার বিরুদ্ধে আপিল করে জামিন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ মার্চ হাইকোর্ট থেকে চারমাসের জামিন পান খালেদা, যা আপিল বিভাগে বহাল থাকে। ওই জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১২ জুলাই থেকে ১৯ জুলাই, এরপর ২৬ জুলাই। এর পর ২৬ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সর্বশেষ ৮ আগস্ট পযন্ত জামিনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। তবে, অন্য মামলা পরোয়ানা থাকায় তিনি কারামুক্তি পাননি।
গত ১২ মার্চ খালেদা জিয়ার চার মাসের জামিনের বিরুদ্ধে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। এরপর গত ১৬ মে তা বহাল রেখে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। পরে খালেদা জিয়া ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে হাইকোর্টে আপিল মামলার নিষ্পত্তিতে আপিল বিভাগের আদেশ পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে আবেদন করেন। ওই আবেদন মুলতবি রেখে আপিল বিভাগ বলেন, খালেদা জিয়ার করা আপিল শুনানি ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে শেষ না হলে সময়ের প্রার্থনা বিবেচনা করা হবে। এর পর ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয় আপিল নিষ্পত্তির জন্য।
এর আগে দণ্ডের রায় ঘোষণার ১১ দিন পর গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে রায়ের সার্টিফায়েড কপি বা অনুলিপি হাতে পান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এরপর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ২০ ফেব্রুয়ারি তারা ওই আবেদন করেন। ২২ ফেব্রুয়ারি সাজার বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ এবং অর্থদণ্ড স্থগিত করে নথি তলব করা হয়।
এরপর ৭ মার্চ অপর আসামি মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামালের আপিলও শুনানির জন্য গ্রহণ করে হাইকোর্ট। পরে ২৮ মার্চ খালেদার সাজা বৃদ্ধি চেয়ে দুদকের করা আবেদনে রুল দেয় হাইকোর্ট। ১০ মে আরেক আসামি শরফুদ্দিনের আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে আদালত। এখন তিন আসামির আপিল ও দুদকের আবেদনের রুল এই আদালতে শুনানি হচ্ছে।
এর আগ মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. ইমরুল কায়েস ভুয়া জন্মদিন পালন ও মুক্তিযুদ্ধকে ‘কলঙ্কিত’ করার অভিযোগে মানহানির দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন।
গত ৫ জুলাই বকশীবাজার আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকা মহানগর হাকিম এই দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১