সন্তানদের ঘরে ফিরিয়ে নিন, গুজবে কান দেবেন না: শেখ হাসিনা
-
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ঘরে ফিরিয়ে নিতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘যথেষ্ট হয়েছে আর না, ঘরের ছেলে-মেয়ে ঘরে ফিরে যেতে হবে। লেখাপড়া করতে হবে। আর কোনো বাবা-মায়ের কোল খালি হোক আমি চাই না। কারণ, হারানোর বেদনা আমি বুঝি। অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ, সন্তানদের ঘরে ফিরিয়ে নিন। আগুন দিয়ে যারা মানুষ মারতে পারে তাদের পক্ষে যেকোনো কিছু করা সম্ভব।‘
আজ (রোববার) সকালে গণভবন থেকে ১০ জেলার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদে অপটিক্যাল ফাইবার কানেক্টিভিটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রযুক্তি যেন গঠনমূলক কাজে ও মানুষের কল্যাণে ব্যবহার হয় সেই আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘গুজবে কান দেবেন না, মিথ্যা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হবেন না। যাই দেখেন যাই শুনেন যাচাই করে নিবেন। স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী যুবক সমাজ সোশ্যাল মিডিয়ার গুজব থেকে দূরে থাকবেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় নোংরা কথা বলা পরিহার করবেন।‘
প্রযুক্তির ব্যবহার করে কেউ কেউ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটা দুর্ঘটনা ঘটে গেছে, সে জন্য আমরা অত্যন্ত দুঃখিত। আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি।‘
অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনার সন্তানরা যাতে সন্ত্রাস, মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হয় সে দিকে খেয়াল রাখবেন। গেল কয়েকদিন ধরে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে কাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নানান কথা বলছে। তারা ধৈর্য ধরেছে। তারা সহপাঠীদের হারানোর বেদনায় রাস্তায় নেমেছে। আন্দোলন করেছে। আমরা তাদের সহায়তা করেছি। মন্ত্রী-এমপিরা সহায়তা করেছে। তাদের যা যা বলেছে তা তা করেছে। কিন্তু কোমলমতি এ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৃতীয় পক্ষ ঢুকে গেছে। তারা সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করছে। শিক্ষার্থীদের এখন যদি কিছু হয়, তবে এর দায়িত্ব কে নেবে?’
রাস্তায় চলাচলে ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্কুল থেকেই ট্রাফিক রুল শেখাতে হবে। স্কুলের সামনেই ট্রাফিক থাকবে, জেব্রা ক্রসিং থাকবে, যেখানে আন্ডার পাস প্রয়োজন তার ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছি। দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, তা যতদূর সম্ভব রোধ করতে হবে। দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ট্রাফিক আইন পার্লামেন্টে নীতিগত সমর্থন দিয়ে অনুমোদন দিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। যা মন্ত্রীসভায় আসবে। পরে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়ার পর তা পার্লামেন্ট উত্থাপন হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, মোবাইল ফোন প্রত্যেকটা মানুষের হাতে আমরা পৌঁছে দিয়েছি। আজকে হাতে হাতে মানুষের মোবাইল ফোন। সব ধরনের ইন্টারনেট আমরা দিয়ে দিচ্ছি। ঘরে বসে আজকে ছেলেমেয়েদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হচ্ছে।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান খান/৫