জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ৬ দফা দাবি
-
প্রেস ক্লাবে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ৬ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত বা অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং তাদের পোষ্যদের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণে অযোগ্য ঘোষণা, নির্বাচনে প্রার্থীর সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা সহ ৬ দফা দাবি জানিয়েছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট।
আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে চলমান রাজনৈতিক অবস্থায় সংস্কৃতিকর্মীদের অবস্থান ব্যাখা করে একটি লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ।
অন্য দাবিগুলো হচ্ছে নির্বাচনে দলীয় স্বার্থে ধর্মের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা। কালো টাকা ও পেশিশক্তির ব্যবহার কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা। নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বাঙালির হাজার বছরের মূল্যবোধ, নীতি-নৈতিকতাবিরোধী অপপ্রচার প্রতিরোধে নির্বাচন কমিশনকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া এবং সংবিধানই হলো রাষ্ট্র পরিচলানার মূলভিত্তি তাই জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সকল মত ও চিন্তার প্রতিফলন একমাত্র সংসদে হওয়া।
সংবাদ সম্মেলনে গোলাম কুদ্দুছ বলেন, দেশের সংকট মূহূর্তগুলোতে হ্যাঁ-না ভোট, সামরিক শাসন, গণতন্ত্রের নামে স্বৈরশাসন, ভোটারবিহীন নির্বাচন হতে দেখা যায়। সামরিক শাসন, দলীয় সরকার এবং নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন হলেও কোনো নির্বাচনই সমালোচনা ও বিতর্কের উর্দ্ধে ছিল না। তাই নির্বাচন আসলেই তৈরি হয় নতুন সংকট। এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে গণতন্ত্রবিরোধী অপশক্তি ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে থাকে। রাজনৈতিক দলসমূহের অনৈক্য, ভোট বর্জন, ভোট প্রতিরোধ এবং কখনো কখনো ক্ষমতার অপব্যাবহারের কারণে জনগণ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে।
এদিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাম গণতান্ত্রিক জোটের এক সমাবেশ সিপিবি’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, দেশ আজ মহাবিপদে। এ অবস্থায় জনগণের ভোট ও ভাতের লড়াই চলতে থাকবে। সংলাপের পাশাপাশি আন্দোলনও চলবে। কারো কথায় কোনোটা থেমে থাকবে না।
আজ সকালে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে সেলিম আরো বলেছেন, আওয়ামী দুঃশাসনে জনগণের জীবন বিপর্যস্ত। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নানা ধরনের অত্যাচারে আজ মানুষ ঘরে থাকতে পারছে না।
তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, লড়াই সংগ্রাম করে দেশ স্বাধীন করলাম । কিন্তু ভোটের অধিকার আজও পেলাম না। আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব- এ দাবিতে সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম হল। স্বৈরাচারের বিদায় হলো। এরপরে মানুষ ধারণা করেছিল অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি হয়ত প্রতিষ্ঠা হয়েছে। কিন্তু আজো তা হয়নি।
প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ শেষে বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ পদযাত্রায় অংশ নেন। পদযাত্রায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন স্তরের জনগণের কাছে নেতৃবৃন্দ তাদের দাবি সমন্বলিত লিফলেট বিলি করেন। বাম জোটের পক্ষ থেকে এসব প্রচারপত্র বিলি করার সময় নেতৃবৃন্দ জনগণকে গণতন্ত্র উদ্বারের সংগ্রাম শরিক হতে আহবান জানান।#
পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/বাবুল আখতার/৬
- খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন