সংকট সমাধানের আগেই তফসিল ঘোষণা একতরফা নির্বাচনের ইঙ্গিত: রিজভী
-
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী
বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক সংকট সমাধান হওয়ার আগেই একাদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানের ইঙ্গিত। এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। কমিশন এখনও নির্বাচন পেছাতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।
আজ (শুক্রবার) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিজভী।
তিনি বলেন, পরিবেশ তৈরি না করে নির্বাচন কমিশন জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। সংলাপে কোন সমাধান না আসলেও কেবল আওয়ামী লীগকে একতরফা সুবিধা দিতে এই আয়োজন করেছে ইসি। তবে, এখনও নির্বাচন পিছিয়ে দেবার সুযোগ রয়েছে। এতে আইনের কোনো লঙ্ঘন হবেনা।
সংলাপে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার না করতে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি উল্লেখ করে রিজভী বলেন, তিনি জাতিকে যেভাবে মিথ্যা আশ্বাস দেন, ঐক্যফ্রন্ট নেতাদেরকেও তেমন আশ্বাস দিয়েছেন। তার আশ্বাসের পর নেতাকর্মীদের গ্রেফতার আরো বেড়েছে।
নির্বাচনে সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি না করায় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। রিজভী বলেন, সরকার কমিশনকে ব্যবহার করে আবারো সেই পুরনো পথে হাটছে। তবে দেশের জনগণ এবার আর কোনো ৫ জানুয়ারি মার্কা নির্বাচন দেখতে চায় না।
এ সময়, সরকারের প্রতিহিংসায় খালেদা জিয়ার জীবন চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছে বলে দাবি করেন বিএনপির এ নেতা। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের ছাড়পত্র ছাড়াই তাকে কারাগারে নেয়া হয়েছে। এটি তার ওপর নানামুখী চাপেরই একটি অংশ। সরকার নিজ উদ্দেশ্য সাধনে বেগম জিয়ার ওপর নিষ্ঠুর অমানবিক আচরণের মাত্রা দিন দিন বাড়িয়ে যাচ্ছে। অবিলম্বে বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তি ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করারও দাবি জানান রিজভী।
এদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, সরকার খালেদা জিয়া ভীতিতে ভুগছে। বিএনপি নেত্রীর জনপ্রিয়তার কারণে জামিনযোগ্য মামলায় তাকে আটকে রাখা হয়েছে। হাইকোর্ট জামিন দিলেও সরকারের নির্দেশে নিম্ন আদালতে তার জামিন আটকে যায়।
আজ (শুক্রবার) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, সরকার সংবিধান ও জনগণকে ভয় পায়। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ীই নির্বাচন সম্ভব, সেটিও তারা করতে চায় না। কারণ সুষ্ঠু নির্বাচন দিলে সরকারের এমপিরা নিজ নিজ এলাকায় যেতে পারবেন না। তাদের অপকর্মের কারণে জনগণ তাদের প্রতিরোধ করবে। তারা পরাজিত হবেন। এ কারণেই তারা সংসদ না ভেঙে নির্বাচনের কথা ভাবছেন।#
পার্সটুডে/শামস মন্ডল/গাজী আবদুর রশীদ/৯
- খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন