সরকারের কৌশলী নির্দেশেই ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের দিন নির্ধারণ: রিজভী
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i65765-সরকারের_কৌশলী_নির্দেশেই_৩০_ডিসেম্বর_নির্বাচনের_দিন_নির্ধারণ_রিজভী
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন একটি বড় ভোট চুরির নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে সরকারের কৌশলী নির্দেশেই ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের দিন নির্ধারণ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। 
(last modified 2026-04-22T07:21:27+00:00 )
নভেম্বর ১৩, ২০১৮ ০৮:২৪ Asia/Dhaka
  • সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী (ফাইল ফটো)
    সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী (ফাইল ফটো)

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন একটি বড় ভোট চুরির নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে সরকারের কৌশলী নির্দেশেই ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের দিন নির্ধারণ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। 

আজ সকাল সাড়ে ১০টায় নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। রিজভী বলেন, '২৫ ডিসেম্বর বড় দিন, থার্টি ফার্স্ট নাইট ও ইংরেজি নর্ববর্ষের কারণে বিদেশি পর্যবেক্ষক, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাই কমিশনার ও কর্মকর্তারা ছুটিতে থাকবেন। নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষকরা যাতে না থাকতে পারে সেজন্য ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ ভোটের দিন নির্ধারণ করেছে ইসি। আমাদের পূর্বের দাবি অনুযায়ী নির্বাচন এক মাস পেছাতে হবে। পুনঃতফসিল দিতে হবে। এছাড়াও নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় ও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারে সব রাজনৈতিক দলকে সমান সুযোগ দিতে হবে।'

নির্বাচন কমিশনার শাহাদাত হোসেনের সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, সব রাজনৈতিক দলের উদ্বেগ সত্ত্বেও সিইসি বলেছিলেন, সীমিত আকারে নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। কিন্তু ইসি কমিশনার শাহাদাত হোসেন বলছেন, ৮০-১০০ আসনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। তাহলে ভোটের আর দরকার কী? 

তিনি বলেন, ইভিএম আওয়ামী ভোট কারচুপির মেশিন। পরাধীন নির্বাচন কমিশন ইভিএম ব্যবহার করে ভোট ডাকাতির মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ইভিএম বন্ধ না করলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

বিরোধী দলের মতকে গুরুত্ব না দিয়ে ইসিকে দিয়ে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায় করছে সরকার বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির এই সিনিয়র নেতা

রিজভী বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে মাইনাস করার জন্যই সাজানো মামলায় প্রহসনের বিচার করে পরিত্যক্ত কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে। ১/১১ এর সময় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল ৪টি, আর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা ছিল ১৬টি। বিএনপি চেয়ারপারসনের বিচার হলে শেখ হাসিনার কেন নয়?।' 

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, 'নির্দোষ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মাইনাস করার জন্যই কারাগারে বন্দী করে রাখা হয়েছে। এছাড়া আর কোনো কারণ নেই। এ পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়া যতগুলো নির্বাচনে যত আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন সবগুলোতেই লাখ লাখ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন, অনেকেই তা পারেননি, এজন্যই বেগম জিয়ার প্রতি এত প্রতিহিংসা। আমি এই মূহুর্তে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।'

নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগের কথা কূটনীতিকদের জানাল বিএনপি

ক্ষমতাসীন জোটের সঙ্গে দুই ধাপে অনুষ্ঠিত সংলাপের ফল এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে নিজেদের উদ্বেগের কথা ঢাকায় নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকদের জানিয়েছে বিএনপি।

সোমবার বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত রুদ্ধদ্বার বৈঠকে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান দলের পক্ষে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ কূটনীতিকদের অবহিত করেন। দলের অভ্যন্তরীণ সূত্র ইউএনবিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এ বিষয়ে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবিহউদ্দিন আহমেদ বলেন, তাঁরা বিদেশি কূটনীতিকদের দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানিয়েছেন। তিনি জানান, বিকেল ৪টায় শুরু হওয়া বৈঠক ঘণ্টাব্যাপী চলে।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইইউ, ইউএন, কানাডা, ভারত, পাকিস্তান, চীন, জাপান, ফ্রান্স, জার্মানি, সুইজারল্যান্ডসহ ৩৫টি দেশের কূটনীতিকরা বৈঠকে অংশ নেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়া, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবিহউদ্দিন আহমেদ অন্যদের মধ্যে বৈঠকে অংশ নেন।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৩