নির্বাচন পেছানোর আর কোনো সুযোগ নেই: ইসি সচিব
-
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ
আগামী ৩০ ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোটগ্রহণের তারিখ আর পেছানো হচ্ছে না। আজ (বৃহস্পতিবার) প্রধান নির্বাচন কমিশার (সিইসি) কে এমন নূরুল হুদার সভাপতিত্বে বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বেলা ১১টা থেকে ১২ পর্যন্ত টানা এক ঘণ্টা বৈঠক করে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছাড়াও অন্য কমিশনারগণ ও নির্বাচন কমিশন সচিব উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘বৈঠক করে কমিশনাররা এই সিদ্ধান্তে নিয়েছেন যে, জানুয়ারি মাসে বেশ কয়েকটি আইনি ও সাংবিধানিক বিষয় আছে। যা হাতে যথেষ্ট সময় নিয়ে কাজগুলো করতে হবে। যেমন যদি পুনর্নির্বাচন করতে হয়, উপনির্বাচন করতে হয়, নির্বাচনে অনিয়ম হলে তদন্ত করা, গেজেট প্রকাশ করা, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ ইত্যাদি। এ ছাড়া বিশ্ব ইজতেমা জানুয়ারি দ্বিতীয় এবং তৃতীয় সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ ধর্ম প্রাণ মুসল্লি অংশ নিয়ে থাকেন এবং লক্ষাধিক আইন শৃঙ্খলাবাহিনী মোতায়েন থাকেন। সব দিক বিবেচনা করে এবং চুলচেরা বিশ্লেষণ করে ৩০ ডিসেম্বরের পরে নির্বাচন পেছানো ইসির কাছে যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত এবং বাস্তবসম্মত না হওয়ায় নির্বাচন পেছানোর আর কোনো সুযোগ নেই বলে ইসি সিদ্ধান্ত দিয়েছে।’
এর আগে গতকাল বিকেলে নির্বাচন কমিশনে সাক্ষাৎ করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা ভোট আরও তিন সপ্তাহ পেছানোর দাবি করেছিলেন। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিবেচনা করা হবে।
অপরদিকে গতকালই ইসির সঙ্গে বৈঠক করে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল। বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের কো-চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) পরিষ্কার বলেছি, ৩০ তারিখ পর্যন্ত নির্বাচন পিছিয়েছেন, আর নয়। একদিনও নয়, একঘণ্টাও নয়।
এদিকে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আজ সকালে জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ আর এক মিনিটও নির্বাচন পেছানোর পক্ষে নয়।
এমন অবস্থায় আজ ভোট আর না পেছানোর সিদ্ধান্ত জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
সকালে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘নির্বাচন হবে। কেউ তা বানচাল করতে পারবে না।’
বিএনপি অফিসে মনোনয়ন ফরম নিতে পুলিশের সাথে সংঘর্ষের কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘বিএনপি আন্দোলনের নামে সহিংসতায় উসকানি দিচ্ছে। নয়া পল্টনের ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত। পরিবেশ নষ্ট করার অশুভ তৎপরতা।'
তিনি আরও বলেন, 'নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচনে অংশগ্রহণে তাদের উদ্দেশ্যটা তো এখন ধোঁয়াশার মধ্যে চলে গেছে। তারা নির্বাচনে যেতে চান না, তারা নির্বাচন বানচাল করতে চান।’
প্রসঙ্গত পুনঃনির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ২৮ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন ২ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ ডিসেম্বর এবং ভোটগ্রহণ দিন ৩০ ডিসেম্বর।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৫
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন