খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিএনপির উদ্বেগ: প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষকের
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i69175-খালেদা_জিয়ার_শারীরিক_অবস্থা_নিয়ে_বিএনপির_উদ্বেগ_প্রতিক্রিয়া_বিশ্লেষকের
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ক্রমশ: অবনতির দিকে যাচ্ছে। আগে থেকেই অসুস্থ ৭৪ বছর বয়স্কা এ রাজনৈতিক নেতা এখন স্বাভাবিকভাবে চলার শক্তিও হারিয়ে ফেলেছেন। এ অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়াকে তার পছন্দমতো হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দেবার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
মার্চ ২৭, ২০১৯ ১৬:২৯ Asia/Dhaka

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ক্রমশ: অবনতির দিকে যাচ্ছে। আগে থেকেই অসুস্থ ৭৪ বছর বয়স্কা এ রাজনৈতিক নেতা এখন স্বাভাবিকভাবে চলার শক্তিও হারিয়ে ফেলেছেন। এ অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়াকে তার পছন্দমতো হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দেবার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ (বুধবার) সকালে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল জানান, কারাগারে বেগম জিয়া এখন এতটাই অসুস্থ যে, তিনি তাঁর কক্ষেও হাঁটতে পারছেন না, অন্যের সাহায্য নিতে হচ্ছে। তিনি মাথা সোজা করতে পারছেন না, পা বাঁকা করতে পারছেন না। তারপরও এই জনপ্রিয় নেত্রীকে কোনো রকমের সুচিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। তাঁকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে কারা কর্তৃপক্ষ উদাসীন রয়েছে। তার সুচিকিৎসার জন্য হাইকোর্টের নির্দেশও মানা হচ্ছে না।  গত সাড়ে তিন মাসে তার কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করা হয়নি। একটি বর্বর রাষ্ট্র ব্যবস্থায়ও একজন রাজনৈতিক নেতার সাথে এমন অমানবিক আচরণ দেখা যায় না বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, চরম অসুস্থ হওয়ার পরও বেগম জিয়াকে কোনো চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে না। যেখানে নিয়মিত তার চিকিৎসা সেবা প্রয়োজন সেখানে তিন চার মাস পরপর চিকিৎসার উদ্যোগ নেয়া তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়ার শামিল। সুপরিকল্পিতভাবেই সরকার এসব করছে। এভাবে তার কিছু হলে এর দায় সরকারকেই বহন করতে হবে।

আলমগীর মহিউদ্দিন

এ প্রসঙ্গে নয়াদিগন্ত পত্রিকার সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন রেডিও তেহরানকে বলেন, বেগম জিয়াকে যেসব মামলায় আটক করা হয়েছে সেটাই একটা আশ্চর্য ব্যাপার। তারপরেও তার ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। একটি সরকার শুধু আইন দিয়েই পরিচালিত হয় না তার মানবিক দিকও থাকতে হয়। সমাজে সুস্থ রাজনীতি চালু থাকলে সকলকে নিয়েই দেশ এগিয়ে যেতে পারে।

উল্লেখ্য, দু’ দু’টি দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকার পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী হয়ে রয়েছেন বেগম জিয়া। গতবছর আদালতের নির্দেশে তাকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করে বিছু পরীক্ষা-নীরিক্ষার পর তাকে আবারো কারাগারে ফেরত আনা হয়। তার বিরুদ্ধে রুজু করা আরো ৩২টি মামলা ঢাকা সহ অন্য জেলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ঢকার কয়েকটি মামলা পরিচালনার জন্য কারাকক্ষে বিশেষ আদালত বসিয়ে বিচার চলছে। অসুস্থার কারণে বেগম জিয়াকে কোন কোন তারিখে আদালতে হাজির করতেও পারছে না কারা কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায় কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপরে আইনি লড়াই বা গণতান্ত্রিক আন্দোলন কোনটাতেই সফলতা পায়নি বিএনপি।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৬