ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দাপুটে জয়: ত্রিদেশীয় সিরিজ বাংলাদেশের
-
দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বাদে এই প্রথম কোনো শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ
সৌম্য সরকার ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ঝড়ো ইনিংসের সুবাদে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতল বাংলাদেশ। এর আগে ছয়টি টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলেও বাংলাদেশকে ফিরতে হয়েছিল শূন্য হাতে। আজ ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে অন্যরকম বাংলাদেশকে দেখল ক্রিকেট বিশ্ব।
ডাবলিনের ম্যালাহাইডে বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২৪ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ১৫২ রান সংগ্রহ করে উইন্ডিজ। বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৪ ওভারে ২১০ রানের। কিন্তু পাহাড় সমান এ লক্ষ্য বাংলাদেশ পেরিয়েছে ৭ বল হাতে রেখে।
২১০ রানের লক্ষ্য রান তাড়া করতে নেমে চোখ ধাঁধানো সব শট খেলে বাংলাদেশকে দুরন্ত সূচনা এনে দিয়েছেন সৌম্য সরকার। মাত্র ২৭ বলে ৮ চার আর ২ ছক্কায় ফিফটি করেন তিনি। তামিম ইকবালের সঙ্গে ওপেনিং জুটিতেই এসেছে ৫৯ রান। তাতে ৩৯ রানই ছিল সৌম্যের। একবার জীবন পেয়েও তামিম ফেরেন ১৮ রান করে।
ওয়ানডাউনে নেমে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি সাব্বির রহমান। তিনি ফেরেন কোন রান না করেই। ৪১ বলে ৬৬ রান করে আউট হন সৌম্য সরকার। এরপর ২২ বলে ৩৬ রান করে রেইফারের বলে এলবিডব্লিও হয়ে ফেরত হন মুশফিকুর রহিম। মুশফিকের পর ভালো শুরু পেয়েও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি মোহাম্মদ মিঠুন। ফ্যাবিয়ান অ্যালানের বলে এলবিডব্লিও হয়ে ফেরত গেছেন তিনি। তার সংগ্রহ ১৪ বলে ১৭ রান।

মিঠুনের বিদায়ের পর মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে মোসাদ্দেক হোসেনের ৪১ বলে ৭০ রানের জুটিতে বাংলাদেশের শিরোপা নিশ্চিত হয়ে যায়।
শেষ ৩ ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ২৭ রান। ফ্যাবিয়ান অ্যালেনের এক ওভার থেকে ২৫ রান নিয়ে মোসাদ্দেক দলকে নিয়ে যান জয়ের প্রান্তে। বাকিটা সারেন দায়িত্বশীল ব্যাটিং করা মাহমুদউল্লাহ। বাউন্ডারিতে শেষ করে আসেন ম্যাচ। মোসাদ্দেক ২৪ বলে অপরাজিত ৫২ রান করেন। আজ বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডে ফরম্যাটে সবচেয়ে দ্রুত অর্ধশতক রান তুলে নেয়া তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে নাম লিখিয়েছেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান সৈকত। তিনি প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ পুরস্কারও জেতেন।
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শাই হোপ ও সুনীল অ্যামব্রিসের ব্যাটে উড়ন্ত সূচনা পায় উইন্ডিজ। ইনিংসের ২৪.১ ওভারের সময় বৃষ্টি নামলে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘন্টা বন্ধ থাকে খেলা।
অ্যামব্রিস ৫৯ ও হোপ ৬৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। বৃষ্টি শেষে মাঠে নেমে হোপ ৬৪ বলে ৭৪ রানের ইনিংস খেলে আউট হন। তাকে মেহেদী হাসান মিরাজ ক্যাচ বানিয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেনের। এরপর অ্যামব্রিস ৬৯ ও ড্যারেন ব্রাভো ৩ রান করে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে উইন্ডিজকে ১৫২ রানের সংগ্রহ এনে দেন।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৭
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।