ঋণ খেলাপিদের বিশেষ সুযোগ: স্থিতাবস্থার মেয়াদ বাড়ল আরও ২ মাস
ঋণ খেলাপিদের বিশেষ সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা সার্কুলারের ওপর স্থিতাবস্থার মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়িয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ (সোমবার) এক রিট মামলার শুনানিতে এ আদেশ দেয়।
এ প্রসঙ্গে রিটকারী আইনজীবী মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ এর সভাপতি অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ রেডিও তেহরানকে জানান, সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে ৯ শতাংশ সুদে ১০ বছরে খেলাপি ঋণ পরিশোধের সুযোগ দিয়ে যে সার্কুলার জারি করেছিল, হাই কোর্টের আজকের আদেশের ফলে আগামী ২৪ আগস্ট পর্যন্ত তার কোনো কার্যকারিতা থাকবে না।
এর আগে গত ২০ বছরে কোটি টাকার উপরে ঋণ খেলাপি হয়েছে এমন ব্যক্তিদের তালিকা, কী পরিমাণ ঋণের সুদ মওকুফ করা হয়েছে, ঋণের সুদ মওকুফের ক্ষেত্রে অনিয়ম বন্ধে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে- এসব তথ্য আদালতে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংককে। সে অনুযায়ী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আজ বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে আদালতে সিলগালা অবস্থায় ওই প্রতিবেদন জমা দেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়, এ পর্যন্ত ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণসহ মোট ২ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণের হিসাব দেওয়া হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। এর আগে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ৯ শতাংশ সরল সুদে খেলাপি ঋণ পরিশোধের জন্য সরকারের দেওয়া সুযোগের সমালোচনা করে বলেছেন, “বর্তমান শাসনামলে খেলাপি ঋণ সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই খেলাপি ঋণের ব্যাপারে আমরা এরশাদ আমলে খুব সোচ্চার ছিলাম। যারা তখন খেলাপি ঋণের শীর্ষে ছিলেন এখনও এই সরকারে তারা শীর্ষ স্থানে রয়েছেন।"
তাছাড়া, সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী অভিযোগ করেছেন ঋণ খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর কথা বললেও অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল তাদের ছাড় দিয়েছেন।
ফরাজী সংসদে বলেছেন, “ব্যাংক খাত এবং পুঁজিবাজারের অবস্থা খারাপ। একটি শ্রেণি ষড়যন্ত্র করে নিজেরা লাভবান হওযার চেষ্টা করছে। ব্যাংক খাত সংস্কার করতে দ্রুত ব্যাংক কমিশন করতে হবে। কিন্তু অর্থমন্ত্রী এ বিষয়ে কিছু বলেননি। অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, ঋণ খেলাপিদের বিষয়ে তিনি কঠোর হবেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি ঋণ খেলাপিদের ছাড় দিয়েছেন।”
তবে, এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, “ঋণ খেলাপি হলেই যদি সব ব্যবসায়ীকে জেলে পাঠানো হয়, তাহলে দেশ চলবে না।”
এ বছর অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর খেলাপি ঋণ কমানোর ঘোষণা দেন মুস্তফা কামাল। তিন মাসের মাথায় ঋণ খেলাপি তকমা থেকে অনেকের বেরিয়ে আসার একটা সুযোগ করে দেয় সরকার।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৪