জম্মু-কাশ্মিরের সাংবিধানিক বিশেষ মর্যাদা বাতিল: বাংলাদেশে প্রতিক্রিয়া
ভারত শাসিত জম্মু-কাশ্মিরের সাংবিধানিক বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন ৩৭০ ধারা বাতিল এবং কাশ্মিরি নেতাদের গৃহবন্দী করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠন।
কাশ্মিরি জনগণের দাবির প্রতি একাত্মতা জানিয়ে আজ বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের গেট থেকে একটি প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল আয়োজন করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এছাড়া, জম্মু-কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, ইসলামি শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, রাষ্ট্রীয় সাংবিধানিক অধিকার বাতিল করে ভারতের বিজেপি সরকার যেভাবে কাশ্মিরে আগ্রাসন চালিয়েছে, এতে করে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মির এখন ফিলিস্তিন ও মিয়ানমারের রাখাইনের মতো হতে যাচ্ছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সারা বিশ্বের সব মানুষকে কাশ্মিরের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান তারা।
এ প্রসঙ্গে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি ইকবাল চৌধুরী রেডিও তেহরানকে জানান, প্রগতিশীল ছাত্রজোট গতকাল সন্ধ্যায় তাৎক্ষণিকভাবে এক প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে এবং আগামীকাল বিকেল শাহবাগ মোড়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করবে।
এদিকে খেলাফত মজলিসের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেছেন, ভারত কাশ্মিরে নিকৃষ্টতম আগ্রাসন শুরু করেছে। ভারতের সংবিধানে ৭০ বছর যাবত বিদ্যমান ৩৭০ ধারা বাতিল কাশ্মিরি জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা। যে শর্তের ভিত্তিতে কাশ্মিরকে ভারতের সাথে একীভূত করা হয় সংবিধান থেকে সেই ধারা বাতিল মানেই চুক্তি লঙ্ঘন। আজকে পুরো কাশ্মিরকে অবরুদ্ধ করে, ১৪৪ ধারা জারি করে, ইন্টারনেট, মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে কাশ্মিরি জনগণের উপর ভয়াবহ জুলুম চালানো হচ্ছে। কাশ্মিরি মুসলমনাদের জীবন নিয়ে বিশ্ববাসী আজ গভীরভাবে শংকিত।
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, ১৯৪৮ সালের জাতিসংঘ প্রস্তাবনা অনুযায়ী কাশ্মিরি জনগণের মতামতের ভিত্তিতেই গোলযোগপূর্ণ কাশ্মির সমস্যার সমাধান করতে হবে। কিন্তু ভারত শক্তি প্রয়োগ করে কাশ্মীরীদের অধিকার খর্ব করতে যুগ যুগ ধরে কাশ্মিরি মুসলমানদের উপর হত্যা, জুলুম, নির্যাতন চালিয়ে আসছে। পুরো কাশ্মির উপত্যাকা রক্তে রঞ্জিত। আবার নতুনভাবে কাশ্মিরে ভারতীয় আগ্রাসন কাশ্মিরি জনগণের অধিকারে উপর যেমন চরম আঘাত একই সাথে তা পুরো উপমহাদেশের স্থিতিশীলতার জন্যেও মারাত্মক হুমকি।
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় জম্মু-কাশ্মিরের সাংবিধানিক বিশেষ মর্যাদা সম্পন্ন ধারা ৩৭০ ও ৩৫এ পুনরুজ্জীবিত করে কাশ্মিরি জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জোর দাবি জানান। একই সাথে কাশ্মিরে ভারতীয় আগ্রাসন ও রক্তপাত, গ্রেফতার, হত্যা, নির্যাতন বন্ধে ও ১৯৪৮ সালের জাতিসংঘ প্রস্তাব বাস্তবায়নে জাতিসংঘসহ বিশ্বসম্প্রদায়কে জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।#
পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/বাবুল আখতার/আশরাফুর রহমান/৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।