বিএনপিকে দল পুনর্গঠনে বাধা দেয়া হচ্ছে: ড. খন্দকার মোশাররফ
-
অবস্থান কর্মসূচিতে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনসহ বিএনপি নেতৃবৃন্দ
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কাউন্সিলের মাধ্যমে দল পুনর্গঠনে সরকার বিএনপিকে বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, আমরা দলের জেলা-উপজেলা পর্যায়ে দলকে সুসংগঠিত করছি। এজন্য যে কাউন্সিল করা দরকার, সেই কাউন্সিল করতে অনুমতি দেয়া হচ্ছে না। ছাত্রদলের যে কাউন্সিল হওয়ার কথা ছিল সেটার উপরও কোর্ট থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
আজ (শুক্রবার) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে স্বাধীনতা ফোরাম আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন বিএনপির এ নেতা। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্বৈরশাসক এরশাদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। এজন্য আজকে যারা ক্ষমতায় আছেন, তারাও এই ব্যাপারে ভীতু। তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। গণতন্ত্রের কথা শুনলে আওয়ামী লীগের গা জ্বালা হয়ে ওঠে।
সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে খন্দকার মোশাররফ বলেন, আমরা শুনতে পাচ্ছি কোন ক্ষেত্রে এই সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই। অর্থনৈতিক, আইনের শাসন, বিভিন্ন প্রকল্প- কোন ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ নেই। যদি থাকতো তাহলে বালিশ-পর্দার মতো দুর্নীতি হতে পারে না। এরপরও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, বালিশ–পর্দা কেনায় দুর্নীতি ছিঁচকে কাজ। এ কথার মাধ্যমে তিনি স্বীকার করেছেন, এর থেকে বড় বড় দুর্নীতিও সরকার করছে।
তিনি বলেন, আজকে বাংলাদেশ থেকে মুদ্রা পাচার হয়ে যাচ্ছে। সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা ভয় পেয়ে গেছে। তাই তারা টাকা বিদেশে পাচার করে নিচ্ছে। বিদেশে বাড়ি কিনছে, বেগমপাড়া হচ্ছে। মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম হচ্ছে, সুইস ব্যাংকে টাকা বাড়ছে। অতএব এর থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই।
খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে না উল্লেখ করে বিএনপির এ নেতা বলেন, আজকে খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা আইনিভাবে লড়াই করছি। স্বাভাবিকভাবে এসব মামলায় সাত দিনের মধ্যে জামিন হওয়ার কথা। কিন্তু তা হচ্ছে না। তাই তার মুক্তির জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করতে হবে।
মহাসড়কের টোল আদায়ের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে খন্দকার মোশররফ বলেন, জনগণের টাকায় নির্মিত সড়কে জনগণ চলাচল করবে। সেখানে কেন তারা টোল আদায় করবে? আর সড়কে যেসব গাড়ি চলে সব গাড়িইতো সরকারকে ট্যাক্স দেয়। বিদেশে বিভিন্ন সংস্থা রাস্তা নির্মাণ করে, তারা টোল আদায় করে সেই টাকা তুলে নেয়। কিন্তু আমাদের দেশের মহাসড়কগুলো তো জনগণের টাকায় বানানো হয়। তাহলে টোল আদায় করবে কেন?#
পার্সটুডে/শামস মণ্ডল/আশরাফুর রহমান/১৩
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন