জাতীয় পার্টির সাদের সমর্থনে সরে দাঁড়ালেন আওয়ামী লীগের রাজু
-
নৌকার প্রার্থী রেজাউল করিম রাজু
রংপুর সদর আসনের উপ-নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজু।
দলের স্থানীয় কর্মী-সমর্থকদের বিরোধিতার মধ্যেই নৌকার প্রার্থী রেজাউল করিম রাজু তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে রাজু তর প্রার্থীতা প্রত্যাহার করার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে যাওয়ার পথে রংপুর মহানগরীর জিরো পয়েন্টে সড়ক অবরোধ করে রাখে আওয়ামী লীগের কয়েকশ নেতা-কর্মী।
প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর বিকাল সাড়ে ৪টায় সংবাদ সম্মেলন করে আওয়ামী লীগ নেতা রাজু বলেন, “জাতীয় স্বার্থে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমি নিজেকে বিসর্জন দিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিলাম। যেহেতু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মনোনয়নপত্র নিয়েছিলাম, আবার উনারই নির্দেশে প্রত্যাহার করলাম।”
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সোমবার দুপুরেই আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।এই আসনে এখন মহাজোটভুক্ত দলগুলোর মধ্যে শুধু জাতীয় পার্টির এরশাদ পূত্র রাহগির আল মাহিই (সাদ এরশাদ) প্রার্থী থাকছেন।
সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য আসনটিতে উপনির্বাচনে সাদ ছাড়াও বৈধ প্রার্থী রয়েছেন বিএনপির রিটা রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী আসিফ শাহরিয়ার, এনপিপির শফিউল আলম, গণফ্রন্টের কাজী মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ও খেলাফত মজলিসের তৌহিদুর রহমান মণ্ডল।
গত ১৪ জুলাই রংপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদের মৃত্যুর পর ১৬ জুলাই আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। গত ১ সেপ্টেম্বর আসনটিতে নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করা হয়।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়ন দাখিলের শেষ তারিখ ছিল ৯ সেপ্টেম্বর।আজ ছিল প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। আগামী ৫ অক্টোবর ভোটগ্রহনের আতরিখ নির্ধারিত রয়েছে।
নির্বাচন পেছানোর দাবীতে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ:
এদিকে, আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবের কারণে রংপুর-৩ আসনের উপ-নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নেতৃবৃন্দ। তাদের দাবি না মানা হলে সংসদীয় এলাকার সংখ্যালঘুদের নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নেতৃবৃন্দ।
পরিষদের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধিদল আজ সোমবার সকালে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে গিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে এ দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে। পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবের দ্বিতীয় দিবস ‘মহাসপ্তমী’র দিনে (৫ই অক্টোবর) রংপুর-৩ আসনের উপ-নির্বাচনের আয়োজনে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। এর পাশাপাশি সনাতনী হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতি রক্ষায় ৫ অক্টোবরের পরিবর্তে শারদীয় দুর্গোৎসবের পর অন্য যে কোনো তারিখে উপ-নির্বাচন পুনঃনির্ধারনের আবেদন জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে আরো বলা হয়, এর অন্যথায় ওই আসনের ধর্মীয় সংখ্যালঘু বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোট বর্জন করা ছাড়া বিকল্প কোনো পথ আর খোলা থাকবে না। প্রতিনিধিদলে ছিলেন, ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক, কাজল দেবনাথ, অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত, মনীন্দ্র কুমার নাথ।
আজ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন:
সোমবার এই আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। জাপা সূত্র সমকালকে জানিয়েছে, গত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছে রওশন এরশাদ ও জিএম কাদের। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে তারা আশ্বাস পেয়েছেন রংপুর-৩ আসনে নৌকার প্রার্থী থাকবে না।
জাপার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচন আগামী ৫ অক্টোবর। অনেক নাটকীয়তার পর এ আসনে লাঙলের প্রার্থী হয়েছেন এরশাদপুত্র রাহগীর আল মাহী সাদ। তাকে মনোনয়ন দিতে রাজি ছিলেন না জাপার চেয়ারম্যান জিএম কাদের। এতে তার ও রওশনের বিরোধে দল ভাঙার উপক্রম হয়।
তবে দলটির মহাসচিব মশিউর রহমান রহমান রাঙ্গাঁ দাবি করেছেন, জাপার আর কোনো বিরোধ নেই। সবাই ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন। এরশাদের আসনে লাঙলের বিজয় নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন তারা। সাদ এরশাদের পক্ষে ইতিমধ্যে প্রতিটি ওয়ার্ডে নির্বাচনী কাজ শুরু হয়েছে। সাদকে বহিরাগত আখ্যা দিয়ে তার বিরোধিতা করেছিলের রংপুরের নেতারা। এরশাদের ভাতিজা হোসেন মকবুল শাহারিয়ার আসিফ বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন।
সাংবাদিকদের রাঙ্গাঁ বলেছেন, আসিফ জাপার কেউ না। এরশাদ জীবদ্দশায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে গেছেন। নির্বাচন পরিচালনায় জিএম কাদেরকে আহ্বায়ক করে ১১ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সাতজন প্রার্থীকে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। আর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে দুই প্রার্থীর।
বুধবার সকাল ১১টার দিকে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শুরু হয়। যাচাই-বাছাই শেষে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা জিএম সাহাতাব উদ্দিন সাতজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন।
তারা হলেন– অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজু (আওয়ামী লীগ), রাহগীর আল মাহী সাদ এরশাদ (জাতীয় পার্টি), রিটা রহমান (বিএনপি), হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ (স্বতন্ত্র), কাজী মো. শহীদুল্লাহ (গণফ্রন্ট), মো. তৌহিদুর রহমান মন্ডল (খেলাফতে মজলিস) ও শফিউল আলম (এনপিপি)।#
পার্সটুডে/ আব্দুর রহমান খান/এমবিএ/১৬
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন