দেশে দুর্নীতি মহামারী আকার ধারণ করেছে: মওদুদ আহমেদ
-
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, দেশে নির্বাচিত সরকার নেই বলে সর্বস্তরে দুর্নীতি মহামারী আকার ধারণ করেছে ।এই সরকারের আমলে দুর্নীতি সর্বকালের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে।
আজ (বুধবার) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে দুর্নীতির ব্যাপকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণ দেখেছেন যে, একটা পিয়নের চাকরির জন্য সরকারি অথবা আধা সরকারি যেকোনো সংস্থায় এমনকি প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগসহ বিশ্ববিদ্যালয়েও যেকোনো চাকরির জন্য টাকা দিতে হয়। অর্থাৎ এমন কোনো জায়গা নাই যেখানে বাণিজ্য নাই, ঘুষ ও অন্যায় অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের ব্যবস্থা নাই।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (এইবি) উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধনে মওদুদ আহমদ ছাত্রলীগ-যুবলীগের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ক্ষমাসীনদের ছাত্র ও যুব সংগঠন গত ১০ বছর বাংলাদেশের মানুষের ওপর যে নির্যাতন করেছে, যে চাঁদাবাজী করেছে, যে টেন্ডারবাজী করেছেন, আজকে তাদের মুখোশ খুলে গেছে। এমন অবস্থা হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী নিজেই তার প্রিয় ছাত্র লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে অপসারণ করতে বাধ্য হয়েছেন।
মওদুদ বলেন, একটা তালিকা তারা বের করেছেন যে, ছাত্রলীগের ৫ শ’ কর্মী-নেতা চাঁদাবাজি করে। এটা ৫ শ’ বা ৫ হাজার হবে অথবা তার চাইতেও বেশি হবে। সরকার তাহলে পরিষ্কারভাবে বাংলাদেশের মানুষকে বলছেন যে, এই ছাত্রলীগ, এই যুবলীগ এরা টেন্ডারবাজি করে, চাঁদাবাজি করে, এরা মানুষের ওপর অত্যাচার করে, এরা জমি দখল করে, এরা দোকান দখল করে, এরা মানুষের ওপর অত্যাচার করে টাকা নেয়, মানুষকে গুম করে টাকা নেয়-এই ধরনের কথাই তো আজকে তারা প্রমাণ করেছে।
রোহিঙ্গা সমস্যা ও আসামের নাগরিকপঞ্জির বিষয়ে সরকারের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করে সাবেক আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার একটি নতজানু সরকার বলে কখনোই রোহিঙ্গা ও আসামের নাগরিকপঞ্জির বিষয়ে কখনোই সফল হতে পারবে না। তার কারণ তারা (সরকার) দুর্বল, তাদের শক্তি নাই, জনগণের সমর্থন তাদের নাই বলে তারা জোর গলায় এসব ইস্যু বিষয়ে সমাধান করতে পারবেন না।
খালেদা জিয়ার মুক্তি আইনি প্রক্রিয়া হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে মওদুদ আহমদ বলেন, আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় তার মুক্তির জন্য চেষ্টা করছি, করে যাবো। কিন্তু এর মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে না। তার মুক্তি হবে রাজপথে। যদি রাজপখ আন্দোলন করতে পারি তাহলে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে এবং সেইদিনের অপেক্ষা আমাদের থাকতে হবে, আমাদের ধৈর্য্য ধারণ করতে হবে। সময়ের অপেক্ষা করে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি যখন দেয়া হবে তখন সারা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে আমাদেরকে সেই আন্দোলন সফল করতে হবে এবং বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।
ওদিকে বেগম জিয়ার মুক্তির দাবীতে রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বেগম জিয়াকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। যেই দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে খালেদা জিয়াকে জেলে আটকে রাখা হয়েছে। সেই টাকা আজ ব্রাকে ছয় কোটিতে রুপান্তরিত হয়েছে। তাহলে আত্মসাত করা হলো কিভাবে?
খন্দকার মোশাররফ বলেন, আজকে বাংলাদেশের সবচেয়ে সংকট হচ্ছে গণতন্ত্রহীনতা। বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে থাকার কারণেই বাংলাদেশকে গণতন্ত্রহীনতা করে রাখা সম্ভব হয়েছে। আর দেশে অলিখিত বাকশাল প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে। অলিখিত বাকশালকে পাকাপোক্ত করার জন্যই বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকিয়ে রাখা হয়েছে। সুতরাং তিনি মুক্তি না পেলে দেশের গণতন্ত্র মুক্তি পাবে না।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/বাবুল আখতার/১৮
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন