রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন চায় মুসলিম নেতারা
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i73962-রোহিঙ্গাদের_দ্রুত_প্রত্যাবাসন_চায়_মুসলিম_নেতারা
রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের অধিকার সহ দ্রুততম সময়ে তাদের মায়ানমারে ফেরত নেবার তাগিদ দিয়েছেন মুসলিম বিশ্বের নেতারা।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৯ ১৫:৫৮ Asia/Dhaka
  • রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন চায় মুসলিম নেতারা

রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের অধিকার সহ দ্রুততম সময়ে তাদের মায়ানমারে ফেরত নেবার তাগিদ দিয়েছেন মুসলিম বিশ্বের নেতারা।

এদিকে এই সমস্যাকে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট উল্লেখ করে মিয়ানমারকেই এর সমাধান করতে হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়,  জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনের অবকাশে গতকাল রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ মিশন ও ওআইসি।

অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘে তার দেয়া পাঁচদফা বাস্তবায়নে বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা চান। একইসঙ্গে এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনে চারটি প্রস্তাব দেবেন বলেও জানান তিনি।

এ সময় রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যাকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে ওআইসি মহাসচিব ড. ইউসুফ বিন আহমেদ আল ওথাইমিন দোষীদের বিচারের তাগিদ দেন।

অনুষ্ঠানে মুসলিম দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশের প্রতিনিধিরা সংকটের টেকসই সমাধানে মিয়ানমারকে তাগিদ দেন।

ওআইসি’র ভূমিকা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এক্ষেত্রে রোহিঙ্গা সংকট ও তাদের ওপর সংগঠিত নৃশংসতার বিষয়টি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিজে) নিতে ওআইসির উদ্যোগ হবে সমাধানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গা সংকট একটি রাজনৈতিক সমস্যা, এর মূল মিয়ানমারে গভীর প্রথিত। সুতরাং এ সংকটের সমাধান মিয়ানমারের ভেতরেই খুঁজে পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, এতদিনেও রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান না হওয়াকে দুঃখজনক। আমরা রোহিঙ্গা সংকটের কোন রকম সমাধান ছাড়াই না করেই আরো একটি বছর দিয়েছি। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের দুর্দশা অব্যহত রয়েছে। জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুসাওে রোহিঙ্গারা নৃশংস অপরাধের শিকার হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। জোরপূর্বক নির্বাসিত ১.১ মিলিয়ন মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিককে আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। মানবিক দিক বিবেচনা করে আমরা আমাদের সীমান্ত খুলে দিয়েছিলাম যা ইসলামের নৈতিক শিক্ষা।

শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গাদের স্বদেশে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে, তাদেও মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করতে আমাদের সম্ভাব্য সব কিছু করতে হবে, চেষ্টা অব্যহত রাখবো। আমরা রোহিঙ্গারা ৮০০ একরের বেশি বনভূমিতে আশ্রয় নিয়েছে যাতে বাসসংস্থান ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা আশ্রয়, খাদ্য, স্বাস্থ্য সেবা, পানি, স্যানিটেশনসহ রোহিঙ্গাদের সকল ধরনের মানবিক সহায়তা দিচ্ছি। ক্যাম্পগুলোতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা এবং পরিচালনায় ক্যাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত সংখ্যক আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী মোতায়েন করা হয়েছে। সড়ক-বিদ্যুৎ সরবরাহসহ নতুন ও অতিরিক্ত অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে ২১৯ টি মেডিকেল সুবিধা স্থাপন করা রয়েছে যার মধ্যে ৫০টি সরকারি ভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অধিক ঘনবসতির সমস্যা সমাধান এবং মানবিক সেবার সুবিধার্থে সুরক্ষার সমস্ত বিধান রেখে রোহিঙ্গাদের জন্য আমরা ভাষানচরের উন্নয়ন করেছি। মিয়ানমারে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের জন্য ভাসানচরে উন্নত আবাসন এবং জীবিকার সুযোগও থাকবে।#

পার্সটুডে/ আব্দুর রহমান খান/ বাবুল আখতার/২৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।