রোহিঙ্গা সংকট : সমাধানের খোঁজে আবারও জাতিসংঘে বাংলাদেশ
-
কক্সবাজারে রোহিঙ্গা সমাবেশ
মিয়ানমারের কূটকৌশল আর তাদের মিত্রদের অনিহার কারণে দীর্ঘায়িত হচ্ছে রোহিঙ্গা সংকট। আর মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে গলায় ফাঁস পড়েছে বাংলাদেশ। দু’দফা উদ্যোগ নিয়েও শুরু করা যায়নি প্রত্যাবাসন। নাগরিকত্ব ও অধিকারের বিষয়টির সুরাহা না হওয়া, রাখাইনে নিরাপত্তার অনিশ্চয়তাসহ নানা কারণে নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরতে রাজি নয় রোহিঙ্গারা।
এ অবস্থায়, সংকট সমাধানে আবারও জাতিসংঘে প্রস্তাব পেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনে দেয়া ভাষণে, সংকট সমাধানে চারদফা প্রস্তাব তুলে ধরবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকে ছয়টার মধ্যে (বাংলাদেশ সময় শনিবার বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে চারটা) তার ভাষণ দেয়ার কথা রয়েছে। ভাষণে রোহিঙ্গা ইস্যুর পাশাপাশি বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা, বিশ্বশান্তির লক্ষ্যে কর্মপরিকল্পনা, নিরাপদ অভিবাসন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবিলাসহ নানা বিষয়ে কথা বলবেন শেখ হাসিনা।
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চারটি প্রস্তাব হলো, ১. রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবর্তন বিষয়ে মিয়ানমারকে অবশ্যই তাদের রাজনৈতিক ইচ্ছা সুস্পষ্ট করতে হবে। এজন্য রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ কী করছে, সেটাও সুস্পষ্টভাবে বলতে হবে। ২. বৈষম্যমূলক আইন ও চর্চা পরিত্যাগ করতে হবে। রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের উত্তর রাখাইন রাজ্যে ‘যাও ও দেখ’—এই নীতিতে পরিদর্শনের অনুমতি দিয়ে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই তাদের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে হবে। ৩. রাখাইন রাজ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বেসামরিক পর্যবেক্ষক মোতায়েন করে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই রোহিঙ্গাসহ সবার নিরাপত্তা ও সুরক্ষার নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে। ৪. আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে, রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণ ও রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত নৃশংসতা দূর করা হয়েছে।
এরআগে, রোহিঙ্গা সংকট বড় আকার ধারণ করার পর ২০১৭ সালে জাতিসংঘের ৭২তম সাধারণ অধিবেশনে এ সমস্যা সমাধানে পাঁচটি প্রস্তাব তুলে ধরেছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। সেসব প্রস্তাবে কফি আনান কমিশনের সুপারিশগুলোর সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন, রাখাইন রাজ্যে আলাদা ‘বেসামরিক পর্যবেক্ষক সেইফ জোন’ প্রতিষ্ঠার কথা ছিল।
এ প্রসঙ্গে নিরাপত্তা বিশ্লেষক, মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আলী শিকদার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রস্তাবনার আলোকে ব্যবস্থা নেয়া হলে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান মিলবে। কিন্তু এজন্য বিশ্ব সম্প্রদায়কেও ভূমিকা রাখতে হবে। বিশেষ করে প্রভাবশালী দেশগুলোকে এক প্ল্যাটফর্ম দাঁড়াতে হবে, তা না হলে ইতিবাচক সুরাহা হবে না। যদি দ্রুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে ক্যাম্পগুলোতে অবস্থানরত রোহিঙ্গা যুবকরা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদে জড়িয়ে পড়তে পারে। কেননা, তারা তাদের স্বজনদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিভিষিকাময় হত্যাযজ্ঞ দেখেছে। তাদের দুর্বলতার এ সুযোগটি নিতে পারে বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে পড়া জঙ্গিগোষ্ঠী। এতে শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারত, চীনসহ এ অঞ্চলের কোন দেশই নিরাপদ থাকবে না।
এরই মধ্যে হত্যা, মাদক চোরাচালানসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে রোহিঙ্গারা। সহসা সংকট কাটছে না ধরে নিয়ে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে কাঁটাতারের বেষ্টনী নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমানে কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ায় ৩৪টি আশ্রয়শিবিরে অবস্থান করছে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা।#
পার্সটুডে/শামস মণ্ডল/আশরাফুর রহমান/২৭