কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরে তৎপর সন্ত্রাসী গ্রুপ, আতঙ্কে স্থানীয়রা
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i75743-কক্সবাজারে_রোহিঙ্গা_ক্যাম্প_ঘিরে_তৎপর_সন্ত্রাসী_গ্রুপ_আতঙ্কে_স্থানীয়রা
বাংলাদেশের কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরে গড়ে ওঠা সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর কারণে আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ইতোমধ্যে ক্যাম্পের পার্শ্ববর্তী দুর্গম পাহাড়ে তাদের বেশ কয়েকটি আস্তানার সন্ধান পেয়েছে আইনশৃংখলা বাহিনী। 
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
ডিসেম্বর ০৭, ২০১৯ ১৩:৫২ Asia/Dhaka

বাংলাদেশের কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরে গড়ে ওঠা সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর কারণে আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ইতোমধ্যে ক্যাম্পের পার্শ্ববর্তী দুর্গম পাহাড়ে তাদের বেশ কয়েকটি আস্তানার সন্ধান পেয়েছে আইনশৃংখলা বাহিনী। 

পুলিশের তথ্য মতে, টেকনাফের শালবাগান এলাকায় আস্তানা বানিয়েছে ১৫টির বেশি রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপ। এসব সন্ত্রাসীরা লোকালয়ে এসে খুন, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, চাঁদাবাজি এবং ডাকাতিসহ নানা অপরাধ সংঘটিত করে নিরাপদে এসব পাহাড়ি আস্তানায় সটকে পড়ে।

স্থানীয় সাংবাদিক তোফায়েল আহমেদ জানান, এসব সন্ত্রাসী গ্রুপের নেটওয়ার্ক অনেক বড়। মিয়ানমার সেনাবাহিণী এদের মদদ দিচ্ছে। তাদের দমন করা না গেলে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাবার আশঙ্কা রয়েছে।

এর আগে গত অক্টোবরে সন্ত্রাসীদের খোঁজে প্রথমবারের মত পাহাড়ে ড্রোনের সাহায্যে অনুসন্ধান চালায় র‍্যাব। কক্সবাজারে র‍্যাব-১৫ এর অধিনায়ক উইং কমান্ডার আজিম আহমেদ বলেন, পাহাড়গুলোতে হেলিকপ্টারে টহল পাঠিয়ে ইতোমধ্যে সন্ত্রাসীদের বেশ কয়েকটি আস্তানারও সন্ধান পাওয়া গেছে।

রোহিঙ্গা সংগঠনের অফিস বন্ধ

এদিকে, রোহিঙ্গাদের অধিকার নিয়ে সক্রিয় বেসরকারী সংস্থা ‘আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস’ (এআরএসপিএইচ)-এর কক্সবাজারস্থ  প্রধান কার্যালয় বন্ধ করার নির্দেশে দিয়েছে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এর অফিস তালাবদ্ধ করে রাখতে বলা হয়েছে।

তবে, বাংলাদেশে শরণার্থী বিষয়ক কমিশনার মাহবুব আলম তালুকদার বলেছেন, আমরা কোনো অফিস বন্ধ করিনি। তাই বলে আমরা এমন কোনো কিছু অনুমোদন করব না, যা শরণার্থী শিবিরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে প্রশ্নের মুখে ফেলে।  তিনি বলেছেন, কর্তৃপক্ষ নির্মিত বহুমুখী কাজে ব্যবহারের উপযোগী কমিউনিটি সেন্টারে মিটিং করতে বলা হয়েছে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের নেতাদের।

উল্লেখ্য, রাখাইনে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নৃশংসতা, গণহত্যার বিরুদ্ধে তথ্য প্রমাণ সংগ্রহের জন্য ২০১৭ সালের শেষের দিকে গঠন করা হয় এআরপিএসএইচ।

সংগঠনটির মুখপাত্র সায়েদ উল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেছেন, ক্যাম্প ইনচার্জ আমাদের অফিস তালাবদ্ধ করে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। সমবেত হওয়ার আগে অনুমতি নিতে বলা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এ কারণে তাদের গ্রুপের সবরকম কর্মকাণ্ড স্থগিত রয়েছে।

মুহিবউল্লাহ

উল্লেখ্য, শিক্ষক থেকে অধিকারকর্মী হয়ে উঠা মুহিবউল্লাহ বর্তমানে শরণার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের মিটিংগুলোতে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের  মুখপাত্র হিসেবে ভূমিকা পালন করেন। 

এ বছর আগস্ট মাসে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নৃশংসতার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে প্রায় দুই লাখ শরণার্থীর বিশাল সমাবেশের নেতৃত্ব দেন মুহিবউল্লাহ। এর ফলে স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। রোহিঙ্গাদের ওই বিশাল সমাবেশ এবং একই সময়ে প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া ব্যর্থ হওয়ার পর দেশে বিদেশে সমালোচনার মাঝে উগ্রবাদী রোহিঙ্গা গ্রুপের বিরুদ্ধে তৎপর হয়ে ওঠে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ।

এ প্রেক্ষিতে ‘আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস” এবং তার নেতাদের কর্মকাণ্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। একই সাথে রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প এলাকায় উচ্চ মাত্রার ইন্টারনেট সুবিধা বন্ধ করে দেয়া হয; মোবাইল সিম বিক্রয়ের ব্যাপারে কড়াকড়ি আরোপ করা হয় এবং ক্যাম্পগুলোর চারদিকে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যাগ নেয়া হয়।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।