করোনাভাইরাস: স্থল বন্দরগুলোতে সতর্কতা; বাংলাদেশজুড়ে গুজব
করোনাভাইরাস নিয়ে বিশ্ব যখন আতঙ্কিত, তখন সতর্কতার অনেকটা অভাব দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশে। সরকারের সচেতনতামূলক পদক্ষেপগুলোও আহ্বান আর অনুরোধের মধ্যে যেন সীমাবদ্ধ। আর এ সুযোগে বাড়ছে গুজব। ফায়দা হাসিলের চেষ্টায় তৎপর অসাধু চক্র।
করোনা আতঙ্কে কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের মাস্ক। তাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হলেও থেমে নেই অধিক মুনাফালোভীর তৎপরতা। করোনার ভুয়া প্রতিষেধক বিক্রির দায়ে নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় দুই প্রতারককে গ্রেফতারের ঘটনাও ঘটেছে।
এদিকে, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে আজ (শুক্রবার) বিকেল থেকে পেট্রাপোল স্থলবন্দর বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। আগামী এক মাস কূটনীতিক ও অফিসিয়াল বাদে সব ধরণের ভিসা বাতিল করেছে দেশটি। সকাল থেকেই কড়াকড়ি শুরু করায় দুর্ভোগে পড়েন ভারতগামী মানুষ। তবে, দুই দেশের মধ্যে আমদানি রফতানি কার্যক্রম চলবে বলে জানান বন্দর কর্মকর্তারা।
সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে বিশেষ সর্তকতা জারি করা হয়েছে। যদিও ভারত থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাক চালক ও হেলপারদের পরীক্ষা নিরীক্ষা না করেই অবাধে বাংলাদেশে ঢুকতে দেয়ার অভিযোগ করেন যাত্রীরা।
এদিকে, মেডিকেল টিম গঠন করে বিতরণ করা হচ্ছে সচেতনতামূলক লিফলেট। তবে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্কতা অবলম্বনের তাগিদ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
করোনাভাইরাস শনাক্তে লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দরে স্বাস্থ্যপরীক্ষার তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারত-বাংলাদেশে প্রবেশ করতে যাত্রীদের নতুন করে একটি ফরম পুরণ করতে হচ্ছে। ওই ফরমে দেয়া তথ্য অনুসারে করোনাভাইরাস বিষয়ে যাত্রী সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষাও অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ১২টি স্থলবন্দর চালু রয়েছে। করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি মোকাবেলায় এসব স্থলবন্দরে নেই স্বাস্থ্যপরীক্ষায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলসহ একাধিক বন্দরে থার্মাল স্ক্যানার ঠিকমতো কাজ না করায় বিকল্প পদ্ধতিতে স্বাস্থ্যপরীক্ষা করার খবর পাওয়া গেছে। এ কারণে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন যাত্রীরা।#
পার্সটুডে/শামস মণ্ডল/আশরাফুর রহমান/১৩