বাংলাদেশে আরো দুই‌ ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত, ৪৩ জন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i78352-বাংলাদেশে_আরো_দুই_ব্যক্তি_করোনায়_আক্রান্ত_৪৩_জন_প্রাতিষ্ঠানিক_কোয়ারেন্টাইনে
বাংলাদেশে নতুন করে করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত আরও দুই রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১০ জনে। এদের মধ্যে তিনজন পুরোপুরি সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
মার্চ ১৭, ২০২০ ১০:১৪ Asia/Dhaka
  • আইইডিসিআর’র পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা (ডানে)
    আইইডিসিআর’র পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা (ডানে)

বাংলাদেশে নতুন করে করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত আরও দুই রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১০ জনে। এদের মধ্যে তিনজন পুরোপুরি সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

আজ (মঙ্গলবার) রাজধানীর মহাখালীতে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) তাদের নিয়মিত প্রেস বিফ্রিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।

আইইডিসিআর’র পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেছেন, ‘করোনাভাইরাসে নতুন করে দুজন পুরুষ আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে একজন ইতালি থেকে আসা। আরেকজন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা এক ব্যক্তির সংস্পর্শে আক্রান্ত হয়েছেন।’

আইইডিসিআরের পরিচালক বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় আইইডিসিআরের হটলাইনে ৪ হাজার ২০৫টি ফোন পেয়েছি। এর মধ্যে কোভিড সংক্রান্ত ফোন ৪ হাজার ১৬৪টি। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে। এ মুহূর্তে আইসোলেশনে আছেন ১৬ জন। প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন ৪৩ জন।’

মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলন, 'আমরা আবারো বলছি, পারিবারিকভাবে খুব শক্তভাবে আমাদের কোয়ারেন্টিন পালন করতে হবে। কারণ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আমরা সংক্রমণ দেখতে পাচ্ছি।'

তিনি বলেন, ‘কোনো অফিস কিংবা বাড়িতে যদি কোনো ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকে, পারিবারিক বা সামাজিক অনুষ্ঠান, সেগুলো আমরা এ মুহূর্তে বন্ধ রাখি। যেখানে এমন কেউ আসতে পারে, যার মধ্যে সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে, অর্থাৎ যিনি বিদেশ থেকে এসেছেন বা এরকম কারো আত্মীয়-স্বজন যদি হয়, সেক্ষেত্রে আমরা অনুষ্ঠানগুলো না করি।’

মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কমিউনিটি ট্রান্সমিশন নেই। অর্থাৎ, সামাজিকভাবে এখনও ছড়িয়ে পড়েনি। সেজন্য হাঁচি, কাশি, সর্দি, গলা ব্যথা- এসব হলেই করোনা নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবেন না।’

আইইডিসিআরের পরিচালক বলেন, ‘পোশাক শিল্প মালিকরা আমাদের কাছে পরামর্শ চেয়েছেন। তাদের জন্য বলবো, অনেক সময় বিদেশি বায়াররা আসেন। কোনো বায়ার যদি দাপ্তরিক কাজে এসে থাকেন, তারা যেন কারখানা পরিদর্শন না করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের চেক করে করে ঢোকানো হয়। তখন যদি রোগের লক্ষণগুলো পরীক্ষা করে নেন। জেনে নেন, তাদের মধ্যে জ্বর, সর্দি, গলা ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি রয়েছে কি না। সে ক্ষেত্রে তাদের আমরা বাড়িতে পাঠিয়ে দিতে পারি। যতদিন সুস্থ না হবেন, ততদিন তারা বাড়িতে থাকবেন। শিল্প মালিকদের আমরা অনুরোধ করবো, সবেতনে যেন তাদের ছুটির ব্যবস্থা করা হয়। তা না হলে তারা তথ্য গোপন করতে পারেন। আমরা সবার সহযোগিতা কামনা করছি।’

করোনা আক্রান্তদের জন্য বর্তমানে ১৫০টি আইসিইউ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান আইইডিসিআর’র পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।