বাংলাদেশে ৫ আসনে উপনির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু: আ. লীগ-বিএনপির প্রতিক্রিয়া
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i82816-বাংলাদেশে_৫_আসনে_উপনির্বাচনের_প্রস্তুতি_শুরু_আ._লীগ_বিএনপির_প্রতিক্রিয়া
করোনা মহামারির মধ্যে গত চার মাসে আওয়ামী লীগের পাঁচজন সংসদ সদস্যের  মৃত্যুতে শূন্য হওয়া আসনে উপনির্বাচনের আয়োজন শুরু হয়ে গেছে। 
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২০ ০৬:৫৫ Asia/Dhaka

করোনা মহামারির মধ্যে গত চার মাসে আওয়ামী লীগের পাঁচজন সংসদ সদস্যের  মৃত্যুতে শূন্য হওয়া আসনে উপনির্বাচনের আয়োজন শুরু হয়ে গেছে। 

নির্বাচন কমিশন আসনগুলো শূন্য ঘোষণা করে নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী পাবনা-৪ আসনের ভোট গ্রহণ হবে ২৬ সেপ্টেম্বর। ঢাকা-৫ এবং নওগাঁ-৬ আসনে ভোট হবে ১৭ অক্টোবর। বাকি দুটি আসনের নির্বাচন আয়োজনের সময় ৯০ দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ছাড়াও সরকার সমর্থক সংসদীয় বিরোধী দল জাতীয় পার্টি এবং সরকার বিরোধী দল বিএনপি পাঁচটি উপনির্বাচনেই অংশ নেবার ঘোষণা দিয়ে তাদের প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শুরু করেছে। কোনো কোনো আসনে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা হয়েছে। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হসিনা

এদিকে, পাঁচটি আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন  প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হসিনা। 

গত বুধবার দলের কেন্দ্রীয় অফিসে সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে ভিডিও মাধ্যমে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনমত জরিপে তার দল জনপ্রিয়তায় এগিয়ে আছে। পাঁচ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরাই জয়ী হবে।

জাতীয় সংসদের পাঁচটি শূন্য আসনের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে মৃত সংসদ সদস্যের পরিবারের সদস্যসহ শ’দেড়েক ব্যক্তি  মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী।

ওদিকে, করোনাভাইরাসের কারণে জুনে অনুষ্ঠিত বগুড়া-১ ও যশোর-৬ আসনের উপ-নির্বাচন বর্জন করলেও এবার আসন্ন পাঁচটি আসনের উপ-নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। গত ২৯ আগস্ট দলের স্থায়ী কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সে অনুযায়ী দলীয় মনোনয়ন ফর্ম বিতরণ ও আগ্রহীদের সাক্ষাৎকার পর্ব শেষ করেছে বিএনপি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

এ বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘নির্বাচনে যাব না, এ কথা আমরা কখনো বলিনি। তখন কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে আমরা নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েও সরে এসেছিলাম। এখন যেহেতু সবকিছু স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে, তাই আমরা নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

এ প্রসঙ্গে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান টুকু বলেছেন, একটি গণতান্ত্রিক দল হিসেবে দলের নেতাকর্মীদের দাবির মুখে তারা নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছে।

তবে বিএনপি’র একজন ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বর্তমান অগণতান্ত্রিক সরকার ও তার আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় আর বিএনপির বিজয়েরও কোনো সুযোগ নেই।

দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বৃহস্পতিবার দলের এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে বিএনপির রাজনীতিকে নতুন করে সাজাতে হবে।

তিনি বলেছেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া শর্তসাপেক্ষে গৃহবন্দি। তিনি যেদিন জনগণের সামনে বক্তব্য রাখবেন, সেদিনই তিনি মুক্ত হবেন। তারেক রহমান যেদিন দেশে ফিরে জনগণের মধ্যে কথা বলবেন, সেদিন তিনি মুক্ত হবেন। ফলে আজ তাদের মুক্তির পথে কী কী বাধা আছে সেগুলো চিন্তা করে বিএনপিকে তার রাজনীতি সাজাতে হবে।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।