সিনহা হত্যা মামলা: পুলিশ সুপার মাসুদ হোসেনকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i82964-সিনহা_হত্যা_মামলা_পুলিশ_সুপার_মাসুদ_হোসেনকে_আসামি_হিসেবে_অন্তর্ভুক্ত_করার_আবেদন
মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় এবার কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ হোসেনকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে আদালতের নিকট আবেদন করেছেন নিহত মেজর সিনহার বোন মামলার বাদী শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
সেপ্টেম্বর ১০, ২০২০ ১৩:৪৯ Asia/Dhaka
  • সিনহা হত্যা মামলা: পুলিশ সুপার মাসুদ হোসেনকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন

মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় এবার কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ হোসেনকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে আদালতের নিকট আবেদন করেছেন নিহত মেজর সিনহার বোন মামলার বাদী শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর ) দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহর আদালতে এ আবেদন করা হয় বলে জানিয়েছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোঃ মোস্তফা। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে পরে আদেশ দেবেন বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।

পরে তার বোনের দায়ের করা মামলায় টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমারসহ সাত পুলিশ সদস্য, তিন এপিবিএন পুলিশ সদস্য ও পুলিশের দায়ে করা পৃথক আরো একটি মামলায় তিন সাক্ষীসহ মোট ১৩ আসামি এ মামলায় এ পর্যন্ত আটক রয়েছে। আর মামলাটি তদন্ত করছে কক্সবাজার র‍্যাব-১৫।

ওদিকে, কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে টেকনাফের বাহারছড়ার আবদুল আমিন ও হোয়াইক্যংয়ের মুফিজ আলম নামের দুইজনকে হত্যার অভিযোগে টেকনাফের সাবেক ওসি প্রদীপ কুমারসহ সহ  ৫৬ জনের বিরুদ্ধে আরো দুটি মামলার আবেদন করা হয়েছে কক্সবাজার আদালতে ।

আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (টেকনাফ-৩) হেলাল উদ্দীনের আদালতে নিহত বাহারছড়ার আবদুল আমিনের ভাই নুরুল আমিন ও মুফিজ আলমের ভাই মোঃ সেলিম বাদি হয়ে এই দু’টি মামলার আবেদন করেন।

বাদি পক্ষের আইনজীবী আবু মুছা সাংবাদিকদের জানান, দুটি মামলার একটি ৩৮ জন ও অন্যটিতে ১৮ জনকে আসামী করা হয়েছে।

প্রথম মামলার বিবরণে জানা যায়, গত বছর বাহারছড়ার সুপারি ব্যবসায়ী আবদুল আমিনের কাছ  থেকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে টেকনাফ থানা পুলিশ। কিন্তু টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ি থেকে তাকে ধরে নিয়ে যায় একদল পুলিশ।

থানায় নিয়ে গিয়েও ৫ লাখ টাকা চাঁদার জন্য চাপ দেয় ওসিসহ পুলিশ দল।শেষে বাধ্য হয়ে পরিবার ৫০ হাজার টাকা দেয়। বাকি টাকার জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর তার স্ত্রীকে ডেকে নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানে তার কাছ থেকে বাকি টাকা দাবি করে পুলিশ। এতে অস্বীকৃতি জানানো হলে একদল পুলিশ আবদুল আমিনকে গুলি করে হত্যা করে।

অপর ঘটনায় টেকনাফ থানা পুলিশ মুফিজ আলম নামের আর একজনের কাছে ১৫ লাখ চাঁদা দাবি করেন। কিন্তু তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। এক পর্যায়ে টাকা না দিলে ক্রসফায়ারে হত্যার হুমকি দেয়। তাই বাধ্য হয়ে ২০১৯ সালের ১২ জুলাই পুলিশকে ৬ লাখ টাকা পরিশোধ করে মফিজের পরিবার। টাকা নেয়ার পরদিনই মুফিজ আলমকে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা হয়।

আইনজীবি আবু মুছা মোহাম্মদ বলেন, ফৌজদারি মামলার এজাহার দু’টি আমলে নিয়েছেন আদালত এবং ওই ঘটনা সংক্রান্ত অন্য মামলা আছে কিনা তা আগামী ধার্য্য দিনের মধ্যে আদালতকে জানাতে টেকনাফ থানার ওসিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এনিয়ে সাবেক ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে ১০ টি  হত্যা মামলায় রুজু হয়েছে।#

পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/ বাবুল আখতার/ ১০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।