বাংলাদেশে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিএনপির অভিযোগ এবং সরকারের পাল্টা বক্তব্য
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের হাতে কোনো কাজ নেই। তাই কমিশন অকাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। মহামারির মধ্যে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আইন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য আইন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আরপিওর অনেকগুলো মৌলিক সংশোধনীর উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগ হঠকারী, অস্বাভাবিক, অনভিপ্রেত, অগ্রহণযোগ্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এটি মহলবিশেষের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের অপকৌশল। আমরা নির্বাচন কমিশনের এ উদ্যোগ প্রচণ্ড ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করি।ওদিকে, মৃত্যুজনিত কারণে শূন্য হওয়া জাতীয় সংসদের চারটি আসনের উপনির্বাচনের জন্য দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া হিসেবে বৃহস্পতিবার থেকে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করেছে বিএনপি।
তবে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে সরকার, নির্বাচন ব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশন এবং পার্লামেন্টের ওপর দায় চাপাচ্ছে। তিনি বলেছেন, ‘সংসদে বিএনপির সদস্য সংখ্যা কম, জনগণ তাদের ভোট দেয়নি, সে দোষ কি সরকারের নাকি পার্লামেন্টের?’
আজ বৃহস্পতিবার সকালে সাউথ এশিয়া সাব রিজিওনাল ইকোনোমিক কো-অপারেশন সাসেক এর আওতায় প্রথম ও দ্বিতীয় প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে এ মন্তব্য করেন সড়ক-সেতুমন্ত্রী।
বিএনপির উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এ দেশের রাজনীতিতে আন্দোলনে ব্যর্থ হলে পরবর্তী নির্বাচনে জয়ী হওয়ার কোন রেকর্ড নেই। নির্বাচনে বিএনপিকে জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে তাদের নেতিবাচক রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর সঙ্গে অতি সখ্যতার জন্য।’
বিএনপি মহাসচিব পার্লামেন্টের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, শক্তিশালী বিরোধী দল সংসদীয় রাজনীতি এবং গণতন্ত্রের বিকাশে খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি সংসদ সদস্যরা পার্লামেন্টে নিয়মিত কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে, সে হিসেবে সরকার দলের সদস্যরা প্রতিদিন তেমন সুযোগ পাচ্ছে না। আজ বৃহস্পতিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, রকিব উদ্দিন কমিশন থেকে শুরু করে গত ১০ বছরে দেশের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন পুরো নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস ও অকার্য্কর করে দিয়েছে ।
ফখরুল বলেন,বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বে গত তিন বছরের বেশি সময় সময়কালে একটিও সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করতে পারেনি। এই অবস্থায় নির্বাচন কমিশনের উচিত নির্বাচনী ব্যবস্থার যে ক্ষতি তারা ইতিমধ্যে করেছে সেই ক্ষতি পূরণ করা, নতুন কোনো সর্বনাশের হাত থেকে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনাকে রক্ষা করা।
তিনি বলেন, আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, গণতান্ত্রিক পথেই সরকার পরিবর্তনে আমরা বিশ্বাসী। এটার কারণে আমরা সব নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। নির্বাচনে অংশ নেওয়াটা আমাদের আন্দোলনের অংশ, পার্ট অব দ্যা মুভমেন্ট। আপনি যখন রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করতে পারছেন না, আপনি যখন ডেমোনেস্ট্রেশন করতে পারেন না, তখন তো সেই সুযোগগুলো নিতে হবে যে সুযোগে কিছুটা হলেও জনগণের কাছে যাওয়া যাবে, জনগণকে এগিয়ে আনা যাবে, সরকারর দু:শাসন, দুর্নীতির কথাগুলো বলতে পারা যাবে। #
পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/ বাবুল আখতার/ ১০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।