সিলেট এমসি কলেজে গণধর্ষণ: প্রধান আসামি ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর গ্রেফতার
-
সাইফুর রহমান
বাংলাদেশের সিলেটের মুরারী চাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় প্রধান আসামি ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধর্ষণের ঘটনার পর ছাত্রাবাসের একটি কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় করা মামলার একমাত্র আসামিও তিনি।
আজ (রোববার) সকালে সুনামগঞ্জের ছাতক থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া সাইফুর রহমান (২৮) সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার চান্দাইপাড়া গ্রামের তাহিদ মিয়ার ছেলে। এমসি কলেজের সাবেক এ শিক্ষার্থী কলেজের তত্ত্বাবধায়কের বাংলো দখল করে সেখানে বসবাস করতেন বলে জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাইয়ুম জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা করে যাচ্ছিল। রোববার ভোররাতে পুলিশের বিশেষ শাখার একটি দল ছাতক থেকে সাইফুরকে গ্রেফতার করে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় স্বামীর সাথে ঘুরতে এমসি কলেজে গিয়েছিলেন ওই নারী। এ সময় কলেজ ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রলীগের পাঁচ থেকে ছয় নেতাকর্মী তাঁদের জোরপূর্বক কলেজের ছাত্রাবাসে নিয়ে যায়। সেখানে একটি কক্ষে স্বামীকে আটকে রেখে তরুণীকে গণধর্ষণ করে তারা। খবর পেয়ে পুলিশ রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই দম্পতিকে ছাত্রাবাস থেকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসা ভর্তি করে।
এ ঘটনায় শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভোর রাতে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২/৩ জনকে অভিযুক্ত করে নগরের শাহপরান থানায় মামলা (২১(৯)২০২০) করেন ধর্ষণের শিকার ওই নারীর স্বামী। আসামিরা হলো- সাইফুর রহমান (২৮), তারেকুল ইসলাম তারেক (২৮), শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি (২৫), অর্জুন লস্কর (২৫), রবিউল ইসলাম (২৫) ও মাহফুজুর রহমান মাসুম (২৫)।
ওসি আবদুল কাইয়ুম জানান, মামলায় ছয়জনকে সরাসরি জড়িত বলে আসামি করা হয়েছে। তবে মামলার এজাহারে তাঁদের ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। অন্য তিনজনের বিরুদ্ধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এছাড়া অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের করেন শাহপরান থানা পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) মিল্টন সরকার। সাইফুর রহমানকে আসামি করে এ মামলা করা হয়।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৭