নিজামীর মৃত্যুদণ্ড বহালের প্রতিবাদে হরতালসহ ৩ দিনের কর্মসূচি জামায়াতের
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i8500-নিজামীর_মৃত্যুদণ্ড_বহালের_প্রতিবাদে_হরতালসহ_৩_দিনের_কর্মসূচি_জামায়াতের
সাবেক শিল্পমন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে করা পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) আবেদন খারিজ করে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখাকে ‘সরকারি ষড়যন্ত্র’ আখ্যা দিয়ে এর প্রতিবাদে ৮ মে আগামী রোববার সকাল থেকে দেশব্যাপী ২৪ ঘণ্টার হরতালসহ তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী। ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে হরতাল ছাড়াও রয়েছে আগামীকাল শুক্রবার দোয়া দিবস ও শনিবার দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
মে ০৫, ২০১৬ ০৮:১৬ Asia/Dhaka
  • মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী
    মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী

সাবেক শিল্পমন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে করা পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) আবেদন খারিজ করে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখাকে ‘সরকারি ষড়যন্ত্র’ আখ্যা দিয়ে এর প্রতিবাদে ৮ মে আগামী রোববার সকাল থেকে দেশব্যাপী ২৪ ঘণ্টার হরতালসহ তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী। ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে হরতাল ছাড়াও রয়েছে আগামীকাল শুক্রবার দোয়া দিবস ও শনিবার দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ।

আজ (বৃহস্পতিবার) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের বেঞ্চ নিজামীর রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেয়ার পরই এক বিবৃতি এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমাদ ও ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান।

বিবৃতি বলা হয়, “সরকার জামায়াতে ইসলামীকে নেতৃত্ব শূন্য করার উদ্দেশ্যেই এই সংগঠনের আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। তার বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে যে সব অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যা, বানোয়াট ও কাল্পনিক। যার প্রমাণ তার জন্মস্থান পাবনার একজন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারসহ ৩ জন বিশিষ্টি বীর মুক্তিযোদ্ধা। তারা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ট্রাইব্যুনালে যে সাক্ষ্য দিয়েছেন সেখানে তারা স্পষ্টভাবে বলেছেন, মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই। তারপরও মাওলানা নিজামীকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করায় দেশবাসী বিস্মিত, হতবাক ও গভীরভাবে মর্মাহত। মাওলানা নিজামী ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।”

বিবৃতিতে বলা হয়, “সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের নামে মাওলানা নিজামীকে হত্যার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। শুরু থেকেই সরকার এই বিচার কার্যক্রমকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা চালিয়েছিল। ২০১৩ সালে তদানীন্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিশরে গিয়ে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও আব্দুল কাদের মোল্লার রায়ের তারিখ নির্ধারণ করে বক্তব্য রাখেন। সরকারের মন্ত্রী ও দলীয় নেতাগণ নিজামী, মুজাহিদ ও সাঈদীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে মর্মে দফায় দফায় ঘোষণা দেন। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চ গঠিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী গণজাগরণ মঞ্চের দাবি বিবেচনায় নিয়ে রায় দেয়ার জন্য বিচারপতিদের প্রতি আহ্বান জানান। সরকারের অন্যায়, অযৌক্তিক, বেআইনী ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপ্রসূত হস্তক্ষেপ স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য থেকে স্পষ্টভাবে বুঝা যাচ্ছে যে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার হীন উদ্দেশ্যেই সরকার দেশী-বিদেশী সকল মহল ও জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার আহ্বান উপেক্ষা করে পরিকল্পিতভাবে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে একের পর এক হত্যা করেই চলেছে।”

বিবৃতিতে জামায়াত নেতারা দাবি করেন, “মাওলানা নিজামীকে হত্যার মাধ্যমে সরকার শুধু জামায়াতে ইসলামীকেই নেতৃত্ব শূন্য করতে চায় না, বরং একজন গণতান্ত্রিক জাতীয় নেতৃত্ব থেকে দেশকে বঞ্চিত করতে চায়। আমরা বিশ্বাস করি একের পর এক নেতৃবৃন্দকে হত্যা করে ইসলামী আদর্শকে হত্যা করা যাবে না। মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ শহীদ নেতৃবৃন্দের সহকর্মীরা হত্যার বদলে হত্যা নয়, ইসলামী আদর্শ বাস্তবায়ন করেই এই নির্মম হত্যাকান্ডের বদলা নেবে ইনশাআল্লাহ। সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে জাতি তা দেখতে চায় এবং মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে মুক্ত অবস্থায় পেতে চায়।"

এই দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামীকাল ৬ মে শুক্রবার দেশব্যাপী দোয়া দিবস, ৭ মে শনিবার দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ এবং ৮ মে রোববার সকাল ৬টা থেকে ৯ মে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ সর্বাত্মক হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করা হয় জামায়াতের বিবৃতিতে।#

আশরাফুর রহমান/৫