সারাদেশে সরকারি দলের কর্মীদের মধ্যে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ
মহান বিজয় দিবসে স্মৃতিসৌধে ফুল দেয়াকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুরের সমর্থকদের সঙ্গে আজ সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের ফারুকী পার্কের স্মৃতিসৌধ এলাকায় স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের সাথে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
আজ বুধবার সকাল ৯টার দিকে এ সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের নেতারা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের ব্যানারে ভিপি নুরের সমর্থকরা স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যান।
এ সময় জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী বলে তাদের শ্রদ্ধা নিবেদনে বাধা দেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল ও তার কর্মী-সমর্থকরা।
পরে ফুল দিয়ে স্মৃতিসৌধ এলাকা ত্যাগ করার সময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদ নেতাকর্মীদের ধাওয়া দেয়। এ সময় ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদ নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় স্মৃতিসৌধ এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদ নেতাকর্মীদের হাত থেকে ছিনিয়ে নেয়া জাতীয় পতাকা নিয়ে স্মৃতিসৌধের সামনের সড়কে মিছিল করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল বলেন, ছাত্র অধিকার পরিষদের সঙ্গে আমাদের কোনো হাতাহাতি বা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেনি। তারা শিবিরকর্মীদের নিয়ে স্মৃতিসৌধে ফুল দিতে গিয়েছিল।
এ সময় তারা স্মৃতিসৌধে উস্কানিমূলক স্লোগান দিয়ে পরিবেশ নষ্ট করে। পরে ছাত্র সমাজের লোকজন তাদের বিতাড়িত করে। পরবর্তীতে আমরা স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে মিছিল করেছি।
অপরদিকে, পৌরসভা নির্বাচন এবং আভ্যান্তরীণ কোন্দলের কারণে মৌলভীবাজার, বরিশাল, ও চাঁদপুরে ছাত্রলীগ-যুবলীগের প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বড়লেখায় পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঘটনায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।
জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে নির্বাচনের প্রচারণা শেষে নৌকার মিছিল করানোয় উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান হোসেনের ওপর হামলা করে ছুরিকাঘাত করা হয়। বড়লেখা উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা শিমুল আহমদের নেতৃত্বে এই হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।
ছাত্রলীগের সভাপতির ওপর হামলার খবরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিভিন্ন এলাকা থেকে পাখিয়ালা এলাকায় ছাত্রলীগের কর্মীরা জড়ো হন। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। দফায় দফায় রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সংঘর্ষ হয়। এ সময় বড়লেখা উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন ও বড়লেখা উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামাদ আহমদসহ উভয় পক্ষের প্রায় ১০ জন আহত হন।
আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় বড়লেখা উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স হতে বড়লেখা সরকারি কলেজ পর্যন্ত এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় ১৬ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১২টায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারার আদেশ জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। হাজীগঞ্জ আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ:২৫ জন আহত
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১২২ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত হাজীগঞ্জ পশ্চিম বাজারে এই সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
হাজীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি হেলাল উদ্দিন মিয়াজি জানান, তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নিয়ে ষড়যন্ত্র ও ভাস্কর্য ভাঙচুরের প্রতিবাদে হাজীগঞ্জ বাজারে একটি প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেন। সমাবেশ শুরুর আগে হাজীগঞ্জ শহর ছাত্রলীগ সভাপতি মেহেদি হাসান রাব্বির নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের অপর একটি গ্রুপ তাদের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এসময় তারা একটি মঞ্চ, পাশের একটি বেসরকারি হাসপাতাল, কয়েকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও যাত্রীবাহী বাস ভাঙচুর করে। সেসময় তারা টায়ার ও কাঠের টুকরা জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধেরও চেষ্টা করে।
তার দাবি, স্থানীয় সংসদ সদস্য মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তমের নামে মিছিল নিয়ে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নামধারী সন্ত্রাসীরা এই হামলা চালায়।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় আওয়ামী লীগের অপর এক নেতা বলেন, ‘আগামী ৩০ জানুয়ারি হাজীগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন। এই নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের একটি গ্রুপ সংসদ সদস্যের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার প্রস্তুতি নিলে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।’
হাজীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মাসুদ ইকবাল ও যুগ্ম-আহ্বায়ক জাকির হোসেন সোহেল জানান, হাজীগঞ্জ বাজারে সংঘর্ষের ঘটনায় যুবলীগের কোনো নেতা-কর্মী সম্পৃক্ত ছিলেন না। তবে রাহী নামের একজনের সঙ্গে সিগারেটের ধোঁয়া নিয়ে ফরহাদ নামের আরেক ছেলের তর্ক-বিতর্কের রেশ ধরে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে। এ নিয়ে দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রথমে লাঠিচার্জ করে। পরে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ১২২ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে
বরিশালে সংঘর্ষ:
তাছাড়া, বরিশালের হিজলায় উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতির ওপর সম্পাদকের হামলার ঘটনা নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুপক্ষের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৫ রাউন্ড ফাকা গুলি ছুড়েছে পুলিশ। এতে পুলিশের ৪ সদস্যসহ কমপক্ষে অর্ধশত ব্যক্তি আহত হয়েছে। আহত পুলিশ সদস্যদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার আওয়ামী লীগ কার্যালয় সংলগ্ন খুন্নাগোবিন্দপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যার দিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথের অনুসারি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সোলায়মান হোসেন শান্ত এবং উপজেলা নারী ভাইস চেয়ারম্যান নাজমা বেগমের ছেলে নাঈম মোটরসাইকেলযোগে খুন্না বন্দর থেকে উপজেলা সদরে যাচ্ছিলেন।
খুন্নাগোবিন্দপুর এলাকা অতিক্রমের সময় সেখানে উপস্থিত থাকা বিরোধী গ্রুপ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ টিপুর অনুসারী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ তানভির দলবল নিয়ে শান্ত ও নাঈমের উপর হামলা চালায়। এতে শান্ত ও নাঈম দুজনেই আহত হন।
পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে আহত দুজনকে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পাশাপশি তাদের মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এরপরই হামলার খবর ছড়িয়ে পরলে পঙ্কজ দেবনাথের অনুসারীরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জড়ো হতে শুরু করে। উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে পাল্টা জড়ো হয় টিপু গ্রুপের লোকজন। উভয় গ্রুপের লোকজন লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জড়ো হলে উত্তপ্ত অবস্থার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কিন্তু এরপরও উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে রাত সোয়া ১০টার দিকে দুই গ্রুপের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও ৫ রাউন্ড ফাকা গুলি ছোড়ে। সংঘর্ষের ঘটনায় হিজলা থানার ওসি তদন্ত তরিকুল ইসলাম তারেক ও চার পুলিশ কনস্টেবলসহ অন্তত অর্ধশত ব্যক্তি আহত হয়। ভাঙচুর করা হয় ৫টি মোটরসাইকেল। আহত পুলিশ সদস্যদের দুজনকে হিজলা এবং ১ জনকে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
হিজলা থানার ওসি অসীম কুমার সিকদার বলেন, সংঘর্ষের মধ্যে থেকে ফাঁকা গুলিও ছুড়েছে কোনো একটি পক্ষ। বিষয়টি তদন্ত চলছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছেন হিজলার এএসপি সার্কেল মতিউর রহমান।
হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বকুল চন্দ্র কবিরাজ বলেন, পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত উপজেলায় রাজনৈতিক কর্মসূচি স্থগিত রাখার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। জাতীয় কর্মসূচি উপজেলা প্রশাসন পালন করবে।
জামালপুরের সংঘর্ষ
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ২ পুলিশ সদস্য, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ২৫ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তারাকান্দি গেইটপাড় এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মো: ফজলুল করিম জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উপজেলা যুবলীগের সদস্য আশরাফুল আলম মুকুল ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
তিনি বলেন, এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তারাকান্দি তদন্ত কেন্দ্রের কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা চেষ্টা করলে বিক্ষুব্ধদের ছোড়া ইটের আঘাতে তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ তারিকুল ইসলাম ও এক পুলিশ কনস্টেবলসহ সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আহতরা হলেন সরিষাবাড়ী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন, ঠান্ডু, আনোয়ার, সাইফুল, লাল চাঁন, লিটন, জাহিদুল, উজ্জল, আজমত, বেলাল, মিন্টু, সাজিদ হাসান মানিক, হাফিজুর, আবুল কালাম, মিজান, আবু তালেব, সাকিব, সাইদুল, সেলিম, খালেক, ছানোয়ার, হেলাল। আহতদেরকে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুনের অবস্থা গুরুত্বর হওয়ায় রাতেই ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।#
পার্সটুডে/ আব্দুর রহমান খান বাবুল আখতার/ ১৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।