পৌর-নির্বাচনে আবারও প্রমাণ হয়েছে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা বেড়েছে: কাদের
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সরকারের সড়ক-সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, গতকালের পৌর-নির্বাচনে আবারও প্রমাণ হয়েছে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা বেড়েছে, বিপরীতে বিএনপির প্রতি অনাস্থার পারদ ধীরে ধীরে কমছে। ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণেও জণগণের আস্থা বেড়েছে এবং মানুষ স্বস্তি প্রকাশ করেছে।
তিনি আজ তার সরকারি বাসভবন থেকে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে একথা বলেন। তিনি বলেন, বিএনপি ইভিএমের বিরোধিতা করলেও তাদের প্রার্থীরা এই পদ্ধতিতে বিজয়ী হওয়ার মধ্য দিয়ে প্রমাণ করেছে প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতিতে কোনোভাবেই অনিয়মের সুযোগ নেই।
এ সময় তিনি দেশের বিভিন্ন পৌরসভা নির্বাচনে ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ গণতন্ত্রের এগিয়ে যাওয়ার বার্তা বহন করে বলে উল্লেখ করেন। প্রচার কার্যক্রম ও ভোটের সুষ্ঠু-নিরাপদ পরিবেশ বজায় রেখে প্রথম ধাপের নির্বাচন সফলভাবে আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনসহ ভোটার এবং বিজয়ীদেরও অভিনন্দন জানান ওবায়দুল কাদের।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ঘোষিত ফলাফলে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা ব্যাপক জয় পেয়েছে। যা শেখ হাসিনা সরকারের প্রতি জনগণের আস্থার বহিঃপ্রকাশ।’ ২৩টি পৌরসভার ঘোষিত ফলাফলে দুটিতে বিএনপি প্রার্থীরা জয়লাভ করেছে জানিয়ে অভিযোগ না করে মাঝপথে ভোট প্রত্যাখ্যানের নেতিবাচক রাজনীতির বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসে শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে থাকার জন্য বিএনপিকেও ধন্যবাদ জানান তিনি।
নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক সূত্র মতে, পৌরসভাগুলোতে ৬০ শতাংশেরও বেশি ভোট কাস্ট হয়েছে। কোথাও কোথাও ৭০ থেকে ৮০ শতাংশও ভোট পড়েছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জনগণ ভোট দিতে পারে না বলে বিএনপির যে মিথ্যা অভিযোগ তা আজ অসার প্রমাণিত হয়েছে।’
নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক সূত্রমতে, পৌরসভাসমূহে ৬০ শতাংশেরও বেশি ভোট কাস্ট হয়েছে। কোথাও কোথাও ৭০ থেকে ৮০ শতাংশও ভোট পড়েছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, জনগণ ভোট দিতে পারে না বলে বিএনপির যে মিথ্যা অভিযোগ তা আজ অসারতা প্রমাণিত হয়েছে। পৌর নির্বাচনে আবারও প্রমাণ হয়েছে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা বেড়েছে, বিপরীতে বিএনপির প্রতি জনআস্থার পারদ ক্রমশ কমছে। বিএনপি মহাসচিবের উদ্দেশ্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, কূটকৌশলের আশ্রয় নিয়ে কচ্ছপের জেতার দিন এখন আর নেই। ইতিহাসের পাঠ থেকে শিক্ষা নিয়ে খরগোশ এখন সচেতন।
ভোট পড়েছে ৬৫ দশমিক ৬ শতাংশ
চলমান পৌরসভা নির্বাচনের প্রথম ধাপে (গড় হিসেবে) ভোট পড়েছে ৬৫ দশমিক ৬ শতাংশ বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার (২৯ ডিসেম্বর) নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম-সচিব (চলতি দায়িত্ব) এস এম আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। এর আগে গতকাল রাতে ভোট পরবর্তী ব্রিফিংয়ে ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর জানিয়েছিলেন এই নির্বাচনে আনুমানিক কমপক্ষে ৬০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে।
ইসি থেকে জানা যায়, প্রথম ধাপে ২৪টি পৌরসভায় নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও খুলনার একটি পৌরসভায় এক মেয়র প্রার্থী ভোটের দিন মারা যাওয়ায় সেখানের মেয়র পদের নির্বাচন স্থগিত করা হয়। তাই প্রথম ধাপের ২৩টি পৌরসভা নির্বাচনে গড়ে ৬৫ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট পড়েছে। এসব পৌরসভায় মোট ভোটার ৬ লাখ ১২ হাজার ৫৭০ জন হলেও ভোট দিয়েছেন ৩ লাখ ৯৮ হাজার ৫৩৭ জন। এছাড়া ৭৫৮ জনের ভোট বাতিল হয়েছে। ইসি থেকে আরও জানা যায়, এই নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পৌরসভায়। সেখানে ভোট পড়ার হার ৮৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। আর কম ভোট পড়েছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌরসভাতে। সেখানে ৪০ দশমিক ৮৭ শতাংশ। ২৩টি পৌরসভায় ১৮টিতে আওয়ামী লীগ, ৩টিতে স্বতন্ত্র এবং ২টিতে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।#
পার্সটুডে/ আব্দুর রহমান খান/ বাবুল আখতার/২৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।