বিজয় সুসংহত করার পথে প্রধান অন্তরায় সাম্প্রদায়িক অপশক্তি: কাদের
-
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিজয় সুসংহত করার পথে প্রধান অন্তরায় সাম্প্রদায়িক অপশক্তি। এই অপশক্তিকে পরাজিত করে বিজয়কে সুসংহত করাই হবে প্রধান লক্ষ্য।’
আজ রোববার (১০ জানুয়ারি) সকালে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে ঐতিহাসিক ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে আওয়ামী লীগের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে ঈর্ষণীয় উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। এই বিজয়ের সুফলকে নস্যাৎ করতে সাম্প্রদায়িক শত্রুরা এখনও তৎপর। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, আব্দুর রাজ্জাক, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, শাজাহান খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি ও কেন্দ্রীয় সদস্য মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
সত্যবচনের পরামর্শ ছোট ভাইয়ের:
‘সত্যবচনে’ এবার নিজের বড় ভাই সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে সতর্ক হতে বললেন ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জা। তিনি বলেন, ‘তাঁর (ওবায়দুল কাদের) ওপরও আমার ক্ষোভ আছে। এখানে জিততে হলে তাঁর আমাদের লাগবে। সামনে জিততে হলে ওনাকেও সতর্ক হতে হবে। এত সহজ নয়, কঠিন ব্যাপার। বউটউ (স্ত্রী) সামলাতে হবে। আর ওনার সঙ্গে যাঁরা হাঁটেন, তাঁরা কার থেকে মাসোহারা পান, তার খোঁজখবর নিতে হবে।’
আজ রোববার সকালে কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচনী পথসভায় বক্তৃতা দেওয়ার সময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জা এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘মুঠোফোনে আমাকে যুব মহিলা লীগের পরিচয় দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেছে। প্রশাসনকে জানিয়েছি, তাঁরা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। তাহলে এই মহিলার হাত অনেক শক্তিশালী, না হয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি কেন?’
নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী আবদুল কাদের মির্জা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করছেন। গত বৃহস্পতিবার বসুরহাট পৌরভবন চত্বরে কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আবদুল কাদের মির্জা বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের আমার সঙ্গে নেই। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ আমার সঙ্গে নেই। নোয়াখালী ও ফেনীর আওয়ামী লীগ আমার বিরুদ্ধে অস্ত্রশস্ত্র পাঠিয়েছে। ডিসি, এসপি, নির্বাচন অফিসার আমার সঙ্গে নেই। আপনারা কেউ আমার সঙ্গে থাকবেন? থাকলে আমি কথা বলব।’ ক্ষোভের সঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই দলের সঙ্গে ৪৭ বছর ধরে জড়িত। দায়িত্বশীলতার ঘাটতি আছে, আপনি যে বললেন হানিফ সাহেব (মাহবুব উল আলম হানিফ)। আপনি দায়িত্বশীল লোক, ভদ্রলোক, আমাদের দলের নেতা। আপনার কুষ্টিয়াতে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যটা যে ভাঙছে, আপনি কি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন?’
এই মেয়র প্রার্থী তাঁর অসুস্থতার কথা পুনরুল্লেখ করে বলেন, ‘আমেরিকায় চিকিৎসার জন্য গিয়ে আমার দুটি টিউমার ধরা পড়েছে। তখন সেখানে আমি ২৪ দিন ঘরে ছিলাম। ঘরে বসে আমার অনুভূতিতে আঘাত করেছে, আমরা কী করছি। তাই বিমানবন্দরে এসে ঘোষণা করেছি, এখন থেকে আমি অন্যায়ের প্রতিবাদ করব। সত্য কথা বলব। তাই এই নির্বাচনকে আমি অন্যায়ের প্রতিবাদের অংশ হিসেবে নিয়েছি। এটা হলো সত্য কথা। নির্বাচন আমার কাছে মুখ্য নয়। এভাবে চলতে দেওয়া যায় না।’
ভাইয়ের বিষয়ে আবদুল কাদের মির্জা বলেন, ‘আমি একটি জায়গায় দুর্বল। ওবায়দুল কাদের সাহেব অসুস্থ। তিনি মারা যাবেন, এটা বললে আমি দুর্বল হয়ে যাই। তাঁরও বুঝতে হবে, তিনি জাতীয় নেতা। আওয়ামী লীগের দুবারের সাধারণ সম্পাদক। আমি নোয়াখালীর, ফেনীর অপরাজনীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করব, দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করব, গ্যাসের অধিকারের জন্য প্রতিবাদ করব। প্রতিবাদ করলে তখন বলে, আমি নাকি পাগল।’#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/বাবুল আখতার/১০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।