পাবনায় মা-বাবার পাশে শায়িত হলেন মাওলানা নিজামী
-
মাওলানা নিজামীর দাফন সম্পন্ন
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আজ (বুধবার) সকাল ৭টা ২০ মিনিটে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার মনমথপুর গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে সকাল ৭টা ১২ মিনিটের দিকে তার নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়।
জানাজায় ইমামতি করেন মাওলানা নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজীব মোমেন। তিনি জানাজা-পূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা করেন। জানাজায় নিজামীর আত্মীয়-স্বজন, এলাকাবাসী ছাড়াও জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে মঙ্গলবার দিনগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ১২টা ১৯ মিনিটে কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তার মরদেহ নিয়ে দু’টি অ্যাম্বুলেন্স ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ছয়টি গাড়ি সকাল পৌনে ৭টার দিকে বাড়ি পৌঁছায়। সেখানে লাশ গ্রহণ করেন সাঁথিয়া থানা নির্বাহী কর্মকর্তা। এরপর তিনি লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে লাশ গ্রহণ করেন নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের লক্ষ্যে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর মাওলানা নিজামীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।
মুক্তিযুদ্ধকালে বুদ্ধিজীবী হত্যা, গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের নির্দেশদাতা, পরিকল্পনা, ষড়যন্ত্র এবং ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়ে (সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি) মাওলানা নিজামীকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আনীত ১৬টি অভিযোগের মধ্যে ট্রাইব্যুনাল আটটি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে। এর মধ্যে চারটি অভিযোগের প্রতিটিতে মৃত্যুদণ্ড এবং অন্য চারটি অভিযোগের প্রত্যেকটিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন জামায়াত নেতা। পরে আপিলের রায়েও তাঁর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। গত ৫ মে আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে করা পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) আবেদন খারিজ করে নিজামীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখে আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের বেঞ্চ এ রায় দেন।
গত সোমবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে মাওলানা নিজামীর রিভিউ আবেদন খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। বিকেলে আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার অরুণাভ চক্রবর্তী ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার মেহেদি হাসান রায়ের কপি নিয়ম অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালে নিয়ে যান। সেখান থেকে রাত ৭টার দিকে ট্রাইব্যুনালের ডেপুটি রেজিস্ট্রার কেশব রায়ের নেতৃত্বে পাঁচ কর্মকর্তা রায়ের লিখিত কপি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছে দেন। লাল ফাইলে মোড়ানো রায়টি গ্রহণ করেন কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির। রাতেই মাওলানা নিজামীকে রায় পড়ে শোনানো হয়। আগের দিন রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মাওলানা নিজামীকে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়।
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগ সংক্রান্ত মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুন মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে একই বছরের ২ আগস্ট তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার দেখানো হয়।
মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ১৯৪৩ সালের ৩১ মার্চ পাবনা জেলার সাঁথিয়া উপজেলার মনমতপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পাবনা-১ (সাঁথিয়া-বেড়া) আসন থেকে ১৯৯১ ও ২০০১ সালে সংসদ সংসদ নির্বাচিত হন। তিনি বাংলাদেশ সরকারের কৃষি এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। #
আশরাফুর রহমান/১১