১৮টি সেবামূলক ও জরুরী প্রতিষ্ঠান লকডাউনের আওতামুক্ত
বিএনপি ব্লেমগেমের রাজনীতি করছে-কাদের; লকডাউনের কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্যবিদরা
-
ওবায়দুল কাদের
গতবছর মার্চে করোনা সংক্রমণ দেখা দেবার পর ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সরকারের মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সদম্ভে বলেছিলেন করোনার চেয়ে আমরা বেশি শক্তিশালী ।
গত একবছর ধরে প্রাণঘাতী করোনার ব্যাপক বিপর্যয়ের পর সেই ওবায়দুল কাদেরের কণ্ঠে এখন অনেকটা আতঙ্কের সুর।
এরি মাঝে করোনার উর্ধ্বমুখী সংক্রমণের জন্য বিএনপিকে অভিযুক্ত করতে শুরু করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। বি এন পি’ র কথা উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, তারা বলেছে কেউ লকডাউন মানছে না, কার্যকর হচ্ছে না, অথচ এখন সরকার সর্বাত্মক লকডাউন দেওয়ার পর বলছে সরকার লকডাউনের নামে শাটডাউন দিয়ে মানুষকে কষ্ট দিচ্ছে।
বিএনপি যদি আজ এই মহামারির সময়ে ব্লেম গেমের রাজনীতি থেকে নিজেদের বিরত রাখে সেটাই জনগণের জন্য শুভ বলে মনে করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বিএনপিকে 'অহেতুক সরকার বিরোধিতার নামে' করোনা সংকটে 'রাজনৈতিক অপপ্রচা'র বন্ধ রাখার আহবান জানান।
এদিকে, সর্বাত্মক লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে আজ বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) রাজধানীর সড়কে বেড়েছে সাধারণ মানুষের চলাচল। তবে সকাল থেকেই মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। লকডাউন বাস্তবায়নে রাস্তার মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
তবে গার্মেন্টসসহ জরুরি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় তাদের কর্মকর্তা-কর্মীদের অনেককেই পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে। আর কর্মহীন মানুষরা যে যেভাবে পারছেন গ্রামের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ছেন।
এ অবস্থায় চলমান লকডাউন কতটুকু বিজ্ঞানসম্মত আর বাংলাদেশের বাস্তবতায় কতটুকু কার্যকর তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা। বিকল্প হিসেবে চিকিৎসা সক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
ওদিকে, ব্যাংক, শিল্পকারখানা ও হাসপাতাল খোলা রেখে চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের কারণে রাস্তায় ‘ভুল-বোঝাবুঝির’ ঘটনাও ঘটছে বলে পুলিশ স্বীকার করেছে।
এই পরিস্থিতিতে জরুরি প্রয়োজনে ‘মুভমেন্ট পাস’ নিয়ে বের হওয়ার নির্দেশনা শিথিল করে আজ পুলিশ সদর দফতর জানিয়েছে ১৮টি সেবামূলক ও জরুরী প্রতিষ্ঠান এ বিধিনিষেধের আওতামুক্ত থাকবে। তাদের কর্মস্থলে আসা-যাওয়া করতে ‘মুভমেন্ট পাস’ এর প্রয়োজন নেই। শুধু পরিচয়পত্র প্রদর্শন করলেই চলবে।
বিধিনিষেধের আওতামুক্ত ব্যক্তিরা হলেন: ডাক্তার, নার্স, মেডিকেল স্টাফ, কোভিড টিকা প্রদান বা চিকিৎসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, ব্যাংকার, ব্যাংকের অন্যান্য স্টাফ, সাংবাদিক, গণমাধ্যমের ক্যামেরাম্যান, টেলিফোন/ইন্টারনেট সেবাকর্মী, বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী, অফিসগামী সরকারি কর্মকর্তা, জরুরি সেবার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা/কর্মচারী, শিল্পকারখানা/গার্মেন্টস উৎপাদনে জড়িত কর্মী/কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, ফায়ার সার্ভিস ,ডাকসেবা, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও জ্বালানির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি/কর্মকর্তা এবং বন্দর–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/কর্মকর্তা। #
পার্সটুডে/এআরকে/ এমএএইচ/১৫