চীন থেকে করোনার টিকা কেনা নিয়ে কূটনৈতিক জটিলতা, বিশ্লেষকের প্রতিক্রিয়া
চীন থেকে টিকা কেনা নিয়ে আবারও সৃষ্টি হয়েছে কূটনৈতিক জটিলতা। এর আগে চুক্তি লংঘন করে টিকার দাম প্রকাশ করা নিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে দুঃখ প্রকাশ করতে হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে ঢাকায় নিযুক্ত চীনা উপরাষ্ট্রদূত হুয়ালং ইয়ান আজ তার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে জানান, চীন সরকার তো দূরের কথা, সিনোফার্মের সঙ্গেই এখনো টিকা কেনার কোনো চুক্তি হয়নি বাংলাদেশের।
তবে চীনের উপরাষ্ট্রদূত আজ জানিয়েছেন, চীনের উপহার হিসেবে ৬ লাখ ডোজ টিকা আগামী ১৩ জুনের মধ্যে ঢাকা আসছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অদক্ষতা ও কূটনৈতিক ব্যর্থতায় টিকা আমদানিতে বারবার হোঁচট খাচ্ছে বাংলাদেশ।
চুক্তি সই করে অগ্রিম মুল্য পরিশোধ করেও বাংলাদেশ ভারতের কাছ থেকে টিকা না পেয়ে চীনের দারস্থ হয়। করোনা টিকা সংকট মোকাবিলায় চীনের প্রতিষ্ঠান সিনোফার্মের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয় বেশ কয়েক মাস আগে। বাংলাদেশ-চীনে টিকা কূটনীতির তৎপরতার মাঝেই বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত লি জিমিং দাবি করেন, দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে না পারা ও সময়ক্ষেপণের কারণে টিকা কিনতে দেরি হয়েছে বাংলাদেশের।
এরই মাঝে আলোচনায় আসে অপ্রকাশযোগ্য চুক্তির বিষয়টি। যার জন্য চীনা ভাষায় লেখার জায়গায় সই করে ফেলা একধরনের চাহিদাপত্র নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রশাসনিক নানা দুর্বলতার কথাও উঠে আসে জনসম্মুখে।
ইতোমধ্যে অপ্রকাশযোগ্য চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে ২৭ মে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শাহিদা আক্তার গণমাধ্যধ্যমকে জানিয়ে দেন ডোজপ্রতি ১০ মার্কিন ডলারে বাংলাদেশকে দেড় কোটি করোনা টিকা দেওয়ার চুক্তি করেছে চায়না ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল গ্রুপ- সিনোফার্ম।

চীন অন্য দেশের কাছে যে দামে টিকা বিক্রি করছে তার চেয়ে কম দামে বাংলাদেশে টিকা দিচ্ছে- এ খবর জানাজানি হলে সে সব দেশ বাংলাদেশের দামের কথা উল্লেখ করে বাড়তি মুল্য ফেরত চায়। এ নিয়ে চীনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশের জন্য ধার্য করা দাম নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে শ্রীলঙ্কা। কারণ, তারা চীনের কাছ থেকে টিকা কিনছে ১৫ ডলারে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, চীন এরই মধ্যে তাদের অস্বস্তির কথা জানিয়েছে। ফলে বাংলাদেশকেও শেষ পর্যন্ত ১৫ ডলারেই চীনা টিকা কিনতে হতে পারে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেছেন, আমরা চীনের টিকা উপহার হিসেবে পেয়েছি, হয়তো সামনে আরও পাব। কিন্তু উপহারের টিকা দিয়ে কিন্তু বাংলাদেশের বিশাল জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় আনা যাবে না। চীনের সঙ্গে চুক্তি করে টিকা কেনা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখানে আমরা কিন্তু কোনো মতপার্থক্য দেখছি না, চীনও চাচ্ছে তারা টিকা বিক্রি করতে আর বাংলাদেশও সেখান থেকে আমদানি করতে চাচ্ছে, সেহেতু বাংলাদেশের এ মুহূর্তে অন্য কোনো সোর্স নেই তাই চীনের সাথে চুক্তি করতে হবে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একেএম আবদুল মোমেন স্বীকার করেছেন, চীন বাংলাদেশকে বিষয়টি জানালে আমরা বলেছি, এটি অসতর্কতার কারণে হয়েছে, ভবিষ্যতে এ রকম আর হবে না।
আর এমন বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টির দায়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. শাহিদা আকতারকে মঙ্গলবার (১ জুন) বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।