চুয়াডাঙ্গায় ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দু’জনের ফাঁসি কার্যকরের প্রস্তুতি
বেগমগঞ্জে নারীকে বিবস্ত্র করে ধর্ষণের মামলার রায়: ২ আসামির যাবজ্জীবন
-
দেলোয়ার-বাহিনী প্রধান দেলোয়ার হোসেন ওরফে দেলু ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী মোহাম্মদ আলী ওরফে আবুল কালাম
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন নোয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১। একইসঙ্গে উভয় আসামিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদ্বয় হচ্ছে -দেলোয়ার-বাহিনী প্রধান দেলোয়ার হোসেন ওরফে দেলু ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী মোহাম্মদ আলী ওরফে আবুল কালাম। আসামিরা উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২ সেপ্টেম্বর বেগমগঞ্জের একলাশপুর ইউনিয়নের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে একটি ঘরে ঢুকে এক নারীকে ধর্ষণ ও বিবস্ত্র অবস্থায় মোবাইলে ভিডিওধারণ করে দেলোয়ার বাহিনীর সদস্যরা। ৪ অক্টোবর সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ঘটনার পর সন্ত্রাসীদের ভয়ে পালিয়ে বেড়ানো ওই নারীকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় বেগমগঞ্জ মডেল থানায় ধর্ষণ, নির্যাতন এবং পর্নোগ্রাফি আইনে তিনটি মামলা করেন নির্যাতিত নারী। আমি তাদের ফাঁসি চেয়েছিলাম
আজ রায় ঘোষণার পর তবে ধর্ষণের শিকার ৩৭ বছর বয়স্কা নারী কাঁদতে কাঁদতে আদালত থেকে বের হয়ে গণমাধ্যমকে বলেছেন, আজকে যে রায় দিয়েছে তাতে আমি খুশি না। আমি তাদের ফাঁসি চেয়েছিলাম। যদি আদালত ফাঁসি দিতেন তাহলে আমি কাঁদতে কাঁদতে বের হতাম না।
ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দু’জনের ফাঁসি
চুয়াডাঙ্গায় ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির ফাঁসি কার্যকরের প্রস্তুতি চলছে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে। আজ সোমবার রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে দুই আসামির দণ্ড কার্যকরের কথা রয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার খাসকররা ইউনিয়নের রায় লক্ষ্মীপুর গ্রামের মিন্টু ওরফে কালু ও একই গ্রামের আজিজ ওরফে আজিজুল।
২০০৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর আজিজুল ও মিন্টু আলমডাঙ্গার রায় রায়লক্ষ্মীপুর গ্রামের দুই বান্ধবীকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন। ওই ঘটনার পরদির মামলা হয়। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে চুয়াডাঙ্গার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০০৭ সালের ২৬ জুলাই আজিজুল ও মিন্টুকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।
আসামিপক্ষ ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে আপিল করে। ২০১২ সালে ১১ নভেম্বর হাই কোর্টের রায়ে সর্বোচ্চ সাজা বহাল থাকে।পরে আসামিরা ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যায়। চলতি বছরের ২৬ জুলাই সেখানেও মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে। এরপর রাষ্ট্রপতির কাছে দুই আসামির প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ হয়ে গেলে দণ্ড কার্যকরের বাধা কাটে। যশোর কারাগারের জেলার জানান, ফাঁসি কার্যকর করতে আটজন জল্লাদকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জনকে সে সময় উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির অনুরোধে তাদের স্বজনদের সঙ্গে শেষ দেখার আনুষ্ঠানিকতাও ইতোমধ্যে সমপন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/বাবুল আখতার/৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।