‘হামলার সময় স্কুলটিতে ৬,০০০ ফিলিস্তিনি ছিল’
সতর্ক না করেই গাজার স্কুলে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল: আনরোয়া
-
জাতিসংঘের ফিলিস্তিন বিষয়ক ত্রাণ সংস্থা- আনরোয়ার প্রধান ফিলিপ লাজ্জারিনি
গাজা উপত্যকার নুসিরাত শরণার্থী শিবিরের একটি স্কুলে আশ্রয় গ্রহণকারী হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে ‘কোনোরকম সতর্ক না করেই’ ইসরাইল তাদের উপর ভয়াবহ বোমাবর্ষণ করেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘের ফিলিস্তিন বিষয়ক ত্রাণ সংস্থা- আনরোয়ার প্রধান ফিলিপ লাজ্জারিনি একথা জানিয়েছেন। তিনি এক এক্স বার্তায় বলেছেন, “আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হওয়া আনরোয়ার আরেকটি স্কুলে হামলা চালানো হয়েছে। জাতিসংঘের কোনো ভবনে হামলা, লক্ষ্যবস্তু বানানো অথবা সামরিক কাজে ব্যবহার করা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের চরম লঙ্ঘন।”
গতকাল (বৃহস্পতিবার) গাজা উপত্যকার নুসিরাত শরণার্থী শিবিরে অবস্থিত একটি স্কুলে আশ্রয় গ্রহণকারী ফিলিস্তিনিদের উপর ভয়াবহ বিমান হামলা চালায় দখলদার ইসরাইল। এতে অন্তত ৪০ হতভাগ্য ফিলিস্তিনি নিহত হন যাদের মধ্যে বহু নারী ও শিশু রয়েছেন। এসব মানুষ প্রাণ বাঁচাতে নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে স্কুলটিতে আশ্রয় নিয়েছিল।
এ সম্পর্কে লাজ্জারিনি আরো বলেন, তার সংস্থা গাজায় আনরোয়া পরিচালিত স্কুলগুলোসহ সকল স্থাপনার তালিকা ইসরাইলি সেনাবাহিনীকে দিয়েছিল যাতে এসব স্থাপনায় হামলা চালানো না হয়।
বৃহস্পতিবার যখন ইসরাইল নুসিরাত শরণার্থী শিবিরের স্কুলটিতে হামলা চালায় তখন সেখানে ৬,০০০ মানুষ ছিল বলে জানান জাতিসংঘের এই কর্মকর্তা।
এদিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা বি’টিসেলেম বলেছে, নুসিরাত শিবিরের স্কুলে ইসরাইলের হামলাটি ‘যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।’ এটি এক বিবৃতিতে বলেছে, “ইসরাইলের দাবি অনুযায়ী স্কুলটি যদি হামাস যোদ্ধারা ব্যবহার করে থাকে তবে তা বেআইনি। কিন্তু সে অজুহাতে স্কুলটিতে আশ্রয় গ্রহণকারী বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নির্বিচারে বোমাবর্ষণ করা যাবে না।”
যুদ্ধের শুরু থেকে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করা গাজায় ইসরাইলি সামরিক তৎপরতার অবশ্যম্ভাবী বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। বি’টিসেলেম অবিলম্বে গাজা যুদ্ধ বন্ধ করতে এগিয়ে আসার জন্য আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।#
পার্সটুডে/এমএমআই/৭
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।