গাজায় যুদ্ধবিরতি দিয়ে পশ্চিম তীরে তাণ্ডব চালাচ্ছে ইহুদিবাদীরা
পশ্চিম তীরে ২ ইসরাইলি সৈন্য নিহত; প্রশংসা করে হামাসের বিবৃতি
-
শাহাদাত-পিয়াসি অভিযানের পরের ছবি
অধিকৃত জর্দান নদীর পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের প্রতিশোধমূলক হামলায় দুই ইসরাইলি সেনার নিহত হওয়ার ঘটনাকে স্বাগত জানিয়েছে ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে গাজা-ভিত্তিক এই প্রতিরোধ সংগঠন বলেছে, পশ্চিম তীরে ইহুদিবাদী বাহিনীর আগ্রাসন ‘বিনা জবাবে পার পাবে না।’
মঙ্গলবার দিনের শুরুতে পশ্চিম তীরের তুবাস শহরের কাছে তাইয়াসির গ্রামে এক প্রতিরোধ যোদ্ধার গুলিবর্ষণে দুই ইসরাইলি সেনা নিহত ও ছয় দখলদার সেনা আহত হয়। আহতদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ সময় ইহুদিবাদী সেনারা পাল্টা গুলি চালিয়ে বন্দুকধারী ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধাকে হত্যা করে। শাহাদাত-পিয়াসী ওই ফিলিস্তিনি যোদ্ধা ইসরাইলি সেনার পোশাক পরে এই অভিযান চালিয়েছেন বলে জানা গেছে।
পশ্চিম তীরের জেনিন, তুলকার্ম ও তুবাসসহ বিভিন্ন স্থানে গত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ব্যাপক তাণ্ডব চালাচ্ছে ইহুদিবাদী সেনারা। তাদের ভয়াবহ হামলায় জানুয়ারি মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৭০ ফিলিস্তিনি নিহত ও শত শত মানুষ আহত হয়েছেন।
হামাসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ ধরনের অপরাধযজ্ঞ চালিয়ে ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতিরোধে ফাটল ধরানো যাবে না।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ইসরাইল তার জাতিগত শুদ্ধি অভিযানকে গাজা থেকে পশ্চিম তীরে সরিয়ে নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ফিলিস্তিনি স্বশাসন কর্তৃপক্ষের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও মঙ্গলবার বলেছে, ইসরাইলি সেনারা পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শহর ও গ্রামের অধিবাসীদেরকে প্রথমে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঘরবাড়ি থেকে বিতাড়ন করছে। এরপর গোটা আবাসিক এলাকাকে বোমা মেরে ধ্বংস করে দিচ্ছে।
ওই মন্ত্রণালয় আরো বলেছে, পশ্চিম তীরকে ইসরাইলি ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত করার সুদূরপ্রসারি চক্রান্তের অংশ হিসেবে ফিলিস্তিনিদেরকে গণহারে বাচ্যুস্তুত করা হচ্ছে। এ ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও জেনেভা কনভেনশনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।#
পার্সটুডে/এসআই/৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।